ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ - ৬:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

টেন্ডার থেকে কমিশন, সম্পদের পাহাড়: প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

  • আপডেট: Tuesday, September 8, 2026 - 11:59 am
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অবসরে যাওয়ার আগে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও গণপূর্ত খাতের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিসের কাজসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি টাকা পর্যন্ত কমিশন বা ‘কাটমানি’ দাবির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন জোনে দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদারি কাজ, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে আবুল খায়ের বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন জোনে অনিয়মের অভিযোগ:

অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নামে-বেনামে সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামে ৩ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ:

চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ‘পার্সেন্টেজ শেয়ারিং’ বা কমিশনভিত্তিক টেন্ডার ব্যবস্থায় তাঁর প্রভাব ছিল। কোনো ঠিকাদার কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে দেওয়া কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লায় রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ:

চট্টগ্রামের পর কুমিল্লা জোনে দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে কুমিল্লা জোন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

রংপুরেও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ:

রংপুর জোনে বদলি হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদার তাঁর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ন্যাশনাল হাউজিংয়ে ৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ:

ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতেও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।

ঢাকায় ‘মিস্টার ৫%’ পরিচয়ের অভিযোগ:

বর্তমানে ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্প ও টেন্ডারে ৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের একটি বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে। এ কারণে ঠিকাদারদের একটি অংশের কাছে তিনি ‘মিস্টার ৫%’ নামে পরিচিত বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর নিজের ও স্বজনদের নামে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অন্তত ২৪টি ফ্ল্যাট থাকার দাবি করা হয়েছে। ন্যাশনাল হাউজিং, পূর্বাচল ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় জমি ও খামারবাড়ি থাকার অভিযোগও রয়েছে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি:

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী আবুল খায়েরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।