ঢাকা | অক্টোবর ১৪, ২০২৬ - ৭:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

এলপিজি সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে ছাড় নয়: জ্বালানিমন্ত্রী

  • আপডেট: Wednesday, October 14, 2026 - 11:47 am
  • পঠিত হয়েছে: 5 বার

টাচ নিউজ:তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ নিয়ে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে সরকার তা মেনে নেবে না। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল নয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির মূল্য ও সরবরাহ পর্যালোচনা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এটি সরকারের তৃতীয় বৈঠক। এর আগের বৈঠকগুলোতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। আগামী ২০ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবারও আলোচনা হবে। ধর্মঘট প্রত্যাহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় এই পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কারসাজি, জনগণকে জিম্মি করা কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তিনি জানান, এলপিজির ডিলার ও বিক্রেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় উঠে আসা কৌশলগুলো প্রকাশ করার সময় এখনো আসেনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী এ ধরনের পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কারসাজি বা বাজারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, এলপিজির সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত। রান্নাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এই জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না।ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যার সমাধানে সরকার প্রস্তুত জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তাঁদের কোনো দাবি বা সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার অপারেটর ও ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ জনস্বার্থবিরোধী কর্মসূচি নিলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, একদিকে এলপিজি ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। সম্ভাব্য ধর্মঘটের কারণে যাতে বাজারে সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।