ঢাকা | অক্টোবর ১৩, ২০২৬ - ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম: নুরুল হক

  • আপডেট: Tuesday, October 13, 2026 - 10:55 am
  • পঠিত হয়েছে: 2 বার

টাচ নিউজ:প্রবাসীদের সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে কার্ডটির কার্যক্রম পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা দেশের সোনার মানুষ। তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পাশাপাশি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ১১টি খাত নির্ধারণ করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের প্রধান তিন সমস্যা চিহ্নিত

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে নুরুল হক বলেন, প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তিনটি সাধারণ সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, দেশে পাসপোর্ট তৈরি করতেও অনেক সময় দালালের সহায়তা নিতে হয়। পাসপোর্ট সেবায় দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরি।দ্বিতীয়ত, অনেক প্রবাসী বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত কাজ পান না। ঋণ করে বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় তাঁদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে সেবা পেতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হন তাঁরা। এ ছাড়া বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও প্রবাসীরা জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার সময় বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে গুগল মিট ও জুমের মাধ্যমে কথা বলেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ থেকে এসব সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

আর্থিক লেনদেন ও সরকারি সেবায় কাজে লাগবে কার্ড

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কার্ডটি আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।প্রবাসীরা দেশে ফিরে জমিজমা-সংক্রান্ত যেসব সমস্যায় পড়েন, সেগুলোর দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সাত দিনের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণসুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা

প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান নুরুল হক। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গেও ব্যাংকটির সংযোগ থাকবে বলে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঋণসুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে, নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে চাইলে তাঁদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ

প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধ করতেও সরকার কাজ করছে।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অভিবাসন খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার প্রশংসা

দেশের উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরে নুরুল হক বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অভিবাসন খাতেও এসব প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, গত তিন দশকে এ খাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রামরুর ৩০ বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়

জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজন করেছে রামরু।সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দশকে রামরু ১০০টির বেশি গবেষণা পরিচালনা করেছে, ১৩টি জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান রেখেছে এবং দেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা দিয়েছে।অভিবাসন বিষয়ে সংস্থাটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, নতুন জ্ঞান বিনিময় এবং ভবিষ্যতের নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রামরুর উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ ও পরিচালক (প্রোগ্রাম) মারিনা সুলতানা। পরে অভিবাসনবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সম্মেলনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।