ঢাকা | জুলাই ২২, ২০২৬ - ৩:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতায় কঠোর শর্তের সুপারিশ, বিলখেলাপিরাও হচ্ছেন অযোগ্য

  • আপডেট: Wednesday, July 22, 2026 - 9:17 am
  • পঠিত হয়েছে: 2 বার

টাচ নিউজ:স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু ঋণখেলাপি নয়, ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে খেলাপি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপিরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে কমিশন আলোচনা করেছে। বর্তমানে কেবল ব্যক্তিগত ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নতুন প্রস্তাবে ঋণের জামিনদার বা গ্যারান্টার হিসেবে খেলাপি ব্যক্তিদেরও অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বকেয়া—উভয় ধরনের বিলখেলাপিকেই অযোগ্যতার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও স্পষ্ট করার সুপারিশ:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব বলেন, বর্তমানে সব স্থানীয় সরকার আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই পাঁচটি আইনেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে সশস্ত্র বাহিনীকেও আইনি কাঠামোর আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইন সংশোধনের জন্য পাঠানো হবে প্রস্তাব:

ইসি জানিয়েছে, কমিশনের গৃহীত সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। বিভাগ প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করলে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধনের সুপারিশ করা হবে।

এনআইডি তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কমানোর ভাবনা:

সভায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। ভবিষ্যতে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক স্তর থেকেই তথ্য সংগ্রহ শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।