ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ - ৬:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • আপডেট: Tuesday, September 22, 2026 - 12:35 pm
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজারে কঠোর মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তবে দেশের বাজারে এর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রভাব যাতে নিত্যপণ্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সরকার নজর রাখছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এ জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নজরদারি:

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যবসায়ী যেন অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি, অতিরিক্ত মুনাফা বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে তা নজরদারির আওতায় আনা হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ খরচে যে চাপ তৈরি হতে পারে, সেটি যেন অযথা ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণ না হয়। এ ক্ষেত্রে বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও পণ্য আমদানি, সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পর সরবরাহব্যবস্থায় যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধী দলের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান:

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা নির্বাচিত বিরোধী দল। তাই মুখরোচক কথাবার্তা না বলে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

চা বাগানের আয় বাড়াতে উদ্যোগ:

অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চা বাগানগুলোর আয় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। চা বাগানকে আরও লাভজনক করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্প্রতি বৈঠকও হয়েছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা গাছের উৎপাদন ব্যাহত না করে বাগানে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছ লাগানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে চা উৎপাদনের পাশাপাশি বাগানগুলোর অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব চা বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এতে বাগানগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা:

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা বাগানের আয় বাড়ানো সম্ভব হলে শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।  তিনি জানান, চা শ্রমিকদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, যেসব চা বাগানে স্কুল নেই সেখানে স্কুল স্থাপন এবং বাগানের রাস্তাঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসুবিধা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১ হাজার ৯৮০ শ্রমিক পেলেন রেইনকোট

অনুষ্ঠানে সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়। সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে চা শ্রমিকদের দৈনন্দিন কাজে সহায়ক উপকরণ হিসেবে এসব রেইনকোট দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আব্দুলাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ জোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি চা বাগানের উৎপাদন বাড়ানো, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এখন বাজারে পণ্য সরবরাহ ও দামের ওপর নজরদারি জোরদার রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।