ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ - ৬:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

  • আপডেট: Tuesday, September 22, 2026 - 12:09 pm
  • পঠিত হয়েছে: 5 বার

টাচ নিউজ:জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবার পড়েছে গণপরিবহনের ভাড়ায়। দেশের দূরপাল্লা ও নগর পরিবহনের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈঠকে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। সংস্থাটির প্রস্তাবে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে প্রস্তাবিত হারের চেয়ে কমিয়ে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জনস্বার্থ বিবেচনায় ৩ পয়সা কমিয়ে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে বাস মালিকদের বিআরটিএর সঙ্গে বসে চুক্তি করতে হবে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে সব রুটেই নির্ধারিত হিসাবের চেয়ে ৩ পয়সা কম ভাড়া নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবারই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

নতুন ভাড়ায় কোন বাসে কত:

নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ছিল ২ টাকা ৫৩ পয়সা। প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর ফলে নতুন ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৭০ পয়সা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে আগে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল ২ টাকা ৪২ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বেড়ে হবে ২ টাকা ৫৯ পয়সা। দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসের ভাড়া আগে প্রতি কিলোমিটারে ছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা। ১৭ পয়সা বাড়ানোর পর এ ধরনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ২ টাকা ৪০ পয়সা। তবে দূরপাল্লার সব বাসে যাত্রীরা একই হারে ভাড়া দেবেন না। কারণ বর্তমানে অনেক নন-এসি বাসে নির্ধারিত ৫২টি আসনের পরিবর্তে ৪০টি বা তারও কম আসন রাখা হয়েছে। আসনসংখ্যা কম হওয়ায় এসব বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। এর সঙ্গে বিভিন্ন রুটে সেতু ও সড়কের টোলও যুক্ত হয়। ফলে যাত্রীদের কোনো একটি নির্দিষ্ট রুটে মোট কত টাকা ভাড়া দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট রুটের দূরত্ব, বাসের ধরন, আসনসংখ্যা এবং প্রযোজ্য টোলের ওপর নির্ভর করবে। নতুন কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রুটের ভাড়া সেই অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

সরকারি হিসাব ২০ পয়সা, বাড়ল ১৭ পয়সা:

বিআরটিএর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাসের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। সেই ব্যয় সমন্বয়ের জন্য দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে বৈঠকে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দূরপাল্লা ও নগর—উভয় ধরনের বাসেই প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিমুল বিশ্বাস বলেন, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই সরকারি হিসাবে যে পরিমাণ ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, তার চেয়ে কম হারে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন ভাড়া নির্ধারণের পর বাস মালিকদের বিআরটিএর সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ থাকবে না।

সিদ্ধান্তের আগে ভাড়া বাড়ালে ব্যবস্থা:

নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগেই কোনো বাস মালিক বা পরিবহন প্রতিষ্ঠান যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘ভাড়া এক পয়সা বাড়লেও সেটা জনগণের ওপর বোঝা।’ সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে কেউ ভাড়া বাড়িয়ে থাকলে মালিক সমিতি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। প্রশাসনিকভাবেও বিষয়টি দেখা হবে। এতে নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা ঠেকাতে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে ১১ পয়সা বেড়েছিল:

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এর আগেও বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। তখন যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসের ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ জন্য বিআরটিএ পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি খরচসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। এবারের সিদ্ধান্তের ফলে দূরপাল্লার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা পর্যায়ের বাসযাত্রীদের যাতায়াত খরচ বাড়বে।

প্রজ্ঞাপনের পর কার্যকর:

মঙ্গলবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেও নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজ্ঞাপন জারির পর নির্ধারিত নতুন কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার ভিত্তিতে বিভিন্ন রুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাস পরিচালনার ব্যয়ও বাড়ে। অন্যদিকে ভাড়া বাড়লে সরাসরি চাপ পড়ে যাত্রীদের ওপর। এ কারণে জ্বালানি ব্যয় ও যাত্রীস্বার্থ—দুই দিক বিবেচনা করেই নতুন ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর পরিবহন মালিকদের নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট মালিক বা পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দেশের দূরপাল্লা ও নগর পরিবহনের যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বাড়ছে। তবে নির্দিষ্ট রুটে মোট ভাড়া কত হবে, তা প্রজ্ঞাপন ও রুটভিত্তিক নতুন ভাড়া তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।