ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ - ৬:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা

  • আপডেট: Tuesday, September 22, 2026 - 12:06 pm
  • পঠিত হয়েছে: 7 বার

টাচ নিউজ:জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।  স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেশের উন্নয়নে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সংসদীয় পর্যায়েও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চান স্পিকার:

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংসদীয় পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় স্পিকার বাংলাদেশের ‘ওয়ান চায়না পলিসি’র প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশকে উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্রে দেখতে চায় চীন:

চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট আকারের বিভিন্ন প্রকল্পেও চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইসিটি খাতসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

করিডোর ও জ্বালানি নিয়েও আলোচনা:

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট এবং জ্বালানি ইস্যু নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে চীনা কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতার বিষয়ে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার। বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।