অপ্রতীম হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, ১ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার
টাচ নিউজ:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষার্থীর এই অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটের দিকে অপ্রতীমের জানাজার নামাজ দুটি পৃথক স্থানে সম্পন্ন হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। তারা অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অবরোধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ মোট চারটি দাবি উত্থাপন করেন। অবরোধস্থলে তারা কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি অংশের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কান্দিরপাড়েও অবস্থান কর্মসূচি:
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে একই দিন কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়স্থ পূবালী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইসলামীয়া জামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা ওই কর্মসূচিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতীম:
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে অপ্রতীম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে তার মায়ের ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। পরে সে বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে তারা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অপ্রতীমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।











