ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ - ৫:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর: প্রতিমন্ত্রী অমিত

  • আপডেট: Saturday, September 19, 2026 - 10:53 am
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

টাচ নিউজ:দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকের সেচ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা কৃষকের জন্য সাশ্রয়ী হবে। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন, যশোর সদর ও জেলা তথ্য অফিস যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়ছে ব্যয়:

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আগে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা গেলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৮ ডলারে উঠেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোদ, বাতাস ও পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সেচ পাম্পে সোলারের ব্যবহার:

সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে কৃষকের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয় উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ কারণে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচ পাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চালানো হবে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের চড়া দামের মধ্যেও কৃষক সাশ্রয়ী খরচে সেচ দিতে পারবেন।’

৩৬ হাজার সেচ পাম্প সোলারে রূপান্তরের উদ্যোগ:

প্রতিমন্ত্রী জানান, যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নে ইতোমধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে সৌরশক্তিচালিত একটি পাম্প দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সেগুলো সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নিজস্ব বাজেট অথবা বৈদেশিক সহায়তা থেকে অর্থের সংস্থান করবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব:

নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু ও পানির মতো নবায়নযোগ্য উৎস কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প উৎস তৈরি হবে।

উঠান বৈঠকে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ:

বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। বৈঠকে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সরাসরি অবহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মতামত, সমস্যা ও পরামর্শ শোনা হচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়।