নরওয়ের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর
টাচ নিউজ:স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, শক্তিশালী ও জনমুখী করতে নরওয়ের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের জন্যই সহায়ক হতে পারে।
আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা:
সৌজন্য সাক্ষাতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন আয়োজন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক, এর কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ:
বৈঠকে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নারীদের আরও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে নরওয়ের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে—এমন বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা:
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নরওয়ের কারিগরি সহায়তার সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্থানীয় সরকার খাতের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শুধু আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা। এ ক্ষেত্রে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার খাতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। সাক্ষাতে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মতো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নরওয়ের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।











