ঢাকা | অক্টোবর ৭, ২০২৬ - ১২:৫৩ অপরাহ্ন

শোভন কর্মসংস্থান শ্রমিকের অধিকার, অনুগ্রহ নয়: গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন

  • আপডেট: Wednesday, October 7, 2026 - 6:16 am
  • পঠিত হয়েছে: 5 বার

টাচ নিউজ:শ্রমিকদের জন্য শোভন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এসজিএসএফ)। সংগঠনটি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানের অবসান, ন্যায়সংগত মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস উপলক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। এতে এসজিএসএফের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সমাবেশে এসজিএসএফের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পোশাকশিল্প। এই শিল্পের শ্রমিকদের শ্রম ও অবদানের ওপর দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক শ্রমিক এখনো অপর্যাপ্ত মজুরি, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। তিনি বলেন, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, ঠিকাদারি, সাব-কন্ট্রাক্টিং ও অন্যান্য পরোক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থায় নিয়মিত কাজ করা শ্রমিকরা চাকরির নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও শ্রমিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন শ্রমিক নিয়মিত ও পূর্ণকালীন কাজ করলে নিয়োগের ধরন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের কারণে তাঁকে নিয়মিত কর্মীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। মূল নিয়োগকর্তার দায় নিশ্চিতের দাবি সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঠিকাদার, সাব-কন্ট্রাক্টর বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের অজুহাতে মূল নিয়োগকর্তাকে শ্রমিকের প্রতি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। শ্রমিকের অধিকার ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল নিয়োগকর্তার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

শহিদুল ইসলাম:

শ্রমিকদের জন্য শোভন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এসজিএসএফ)। সংগঠনটি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানের অবসান, ন্যায়সংগত মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস উপলক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। এতে এসজিএসএফের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সমাবেশে এসজিএসএফের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পোশাকশিল্প। এই শিল্পের শ্রমিকদের শ্রম ও অবদানের ওপর দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক শ্রমিক এখনো অপর্যাপ্ত মজুরি, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। তিনি বলেন, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, ঠিকাদারি, সাব-কন্ট্রাক্টিং ও অন্যান্য পরোক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থায় নিয়মিত কাজ করা শ্রমিকরা চাকরির নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও শ্রমিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন শ্রমিক নিয়মিত ও পূর্ণকালীন কাজ করলে নিয়োগের ধরন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের কারণে তাঁকে নিয়মিত কর্মীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। মূল নিয়োগকর্তার দায় নিশ্চিতের দাবি সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঠিকাদার, সাব-কন্ট্রাক্টর বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের অজুহাতে মূল নিয়োগকর্তাকে শ্রমিকের প্রতি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। শ্রমিকের অধিকার ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল নিয়োগকর্তার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তারা বলেন, শ্রমিকের মজুরি এমন হতে হবে, যাতে শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত হয়। পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নিয়মিত পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানান তারা। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিটি পোশাক কারখানা ও কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (OSH) নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, সুরক্ষা উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মালিক ও নিয়োগকর্তার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তারা। যৌন হয়রানি ও সহিংসতামুক্ত কর্মপরিবেশের দাবি নারী শ্রমিকসহ সব শ্রমিকের জন্য সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ জন্য আইএলও কনভেনশন-১৯০ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও প্রতিকারের জন্য নিরাপদ, কার্যকর, নিরপেক্ষ ও শ্রমিকবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গিগ ও পরিচর্যা কর্মীদের অধিকার নিশ্চিতের দাবি পরিচর্যা কর্মীদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি, ন্যায়সংগত মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে। একই সঙ্গে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের ন্যায্য কর্মঘণ্টা, ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, সামাজিক সুরক্ষা এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। কর্মজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, সহজলভ্য ও নিরাপদ ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

সমাবেশ থেকে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন যেসব দাবি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

– শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করা;
– পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন;
– অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানের অবসান;
– অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় আনা;
– অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, ঠিকাদারি ও পরোক্ষভাবে নিয়োজিত নিয়মিত শ্রমিকদের পূর্ণ কর্মসংস্থান অধিকার নিশ্চিত করা;
– সব শ্রমিকের জন্য নিয়োগপত্র, কর্মপরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
– প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
– আইএলও কনভেনশন-১৯০ বাস্তবায়ন;
– শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ও যৌথ দর-কষাকষির অধিকার নিশ্চিত করা;
– পরিচর্যা কর্মীদের ন্যায়সংগত মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা;
– গিগ ও প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের ন্যায্য কর্মঘণ্টা, মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা;
– কর্মজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা;
– ঠিকাদার বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের অজুহাতে মূল নিয়োগকর্তাকে শ্রমিকের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “শোভন কাজ কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের অধিকার।” তারা বলেন, কর্মসংস্থানের ধরন দিয়ে শ্রমিকের অধিকার নির্ধারণ করা যাবে না। নিয়মিত কাজ করা প্রত্যেক শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থানের স্বীকৃতি, ন্যায়সংগত মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে টেকসই ও শ্রমিকবান্ধব করতে হলে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।