ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ - ৮:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অক্টোবরেও বাড়তে পারে ডেঙ্গু, প্রস্তুতির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

  • আপডেট: Saturday, September 5, 2026 - 1:02 pm
  • পঠিত হয়েছে: 2 বার

জিয়াউল হক টুটুল:
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। আগস্টে রোগী ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতেও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় আগামী অক্টোবরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এখনই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ৪৪ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১১১ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ হাজার ১৯৩ জন। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২ হাজার ৭৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

আগস্টে সবচেয়ে বেশি রোগী:

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। জুনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০৭ জনে। জুলাইয়ে তা বেড়ে হয় ৯ হাজার ২০৬ জন। আর আগস্টে এক লাফে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুর হিসাবেও আগস্ট ছিল চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ মাস। জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নিয়ে উদ্বেগ:

সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ৩ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চারজনের মৃত্যু হয়। পরদিন নতুন করে ৫১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু সেপ্টেম্বর নয়, অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। কোথায় এডিস মশার ঘনত্ব বাড়ছে এবং কোন এলাকায় রোগী বাড়ছে—দুটি বিষয় একসঙ্গে নজরদারিতে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, মশক নিধনে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্ত, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন—এই তিনটি বিষয় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে কিংবা হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।

আগস্ট-সেপ্টেম্বরেই কেন বাড়ে ডেঙ্গু:

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাধারণত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি থাকে। বর্ষায় বিভিন্ন পাত্র, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন, পরিত্যক্ত টায়ারসহ নানা স্থানে পানি জমে থাকে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে। ফলে বৃষ্টির কিছুদিন পর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নিয়ে উদ্বেগের কারণ তৈরি করছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ৭৯ হাজার ৫৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৩৯৬ জনের মৃত্যু হয়।

জ্বর কমলেও সতর্ক থাকতে হবে:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে যায় না। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। তাদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালকেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাড়ি, পাড়া-মহল্লা ও কর্মস্থল থেকে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সম্ভাব্য বড় সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চাইলে এর জন্য **আরও ১০টি আকর্ষণীয় ও ক্লিকযোগ্য শিরোনাম**ও দিতে পারি।