ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ - ৬:৫১ অপরাহ্ন

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: মোজাফফরের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি আজ

  • আপডেট: Wednesday, September 23, 2026 - 12:28 pm
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

টাচ নিউজ:শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে আজ বুধবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে গত ২৩ জুলাই শুনানি শেষে মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থাকে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর তদন্ত সংস্থা মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে ট্রাইব্যুনালে:

এর আগে গত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন এবং মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। পরে ২৩ জুলাই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থাকে সুবিধাজনক সময়ে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়।

জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও আসামি:

মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত। এই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ:

তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মোজাফফর হোসেন তথ্য দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার জিজ্ঞাসাবাদে তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমানের নাম আসার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য তদন্ত সংস্থার বক্তব্য ও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রায় ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার:

দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মামলায় মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচারিক কার্যক্রমও রয়েছে। সেই মামলার পাশাপাশি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।

আজকের শুনানিতে কী হবে:

আজকের শুনানিতে মূলত মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এগোতে পারে। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও তদন্ত সংস্থার বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আদেশ দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হতে পারে। এদিকে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে সামরিক আইনে চলমান বিচারিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে এগোচ্ছে। ফলে প্রায় সাড়ে চার দশক পর গ্রেপ্তার হওয়া এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে ঘিরে দুই পৃথক বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।