ঢাকা | অক্টোবর ৪, ২০২৬ - ৫:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আমু-দীপু মনিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শিগগির ফরমাল চার্জ: প্রসিকিউটর তামিম

  • আপডেট: Sunday, October 4, 2026 - 10:58 am
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উপদেষ্টাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এই তথ্য জানান। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন সাপেক্ষে যে ১০ জন আটক আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত ফরমাল চার্জ গঠন করা হচ্ছে, তারা হলেন— সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। পলাতক ও আটক আসামিদের আলাদাভাবে বিচার করার অভিযোগ নাকচ করে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “আসামি পলাতক না আটক, সেটি সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেই ফরমাল চার্জ দেওয়া হয়।” ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান ট্রাইব্যুনালে ঢালাওভাবে কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না। অপরাধের মাত্রা ও প্রমাণের ভিত্তিতে কারও ৩ বছর, ৭ বছর, ১০ বছর, যাবজ্জীবন আবার কারও মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলার রায় হয়েছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে প্রসিকিউশন স্পষ্ট করে জানান, কাউকে পেশাগত কারণে আসামি করা হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন— তদন্তে এমন সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ও দালিলিক প্রমাণ পাওয়ার পরই কেবল তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। আসামিরা আদালতে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না— এমন প্রশ্নে প্রসিকিউশন জানায়, পরোয়ানা জারির পর তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার।
এদিকে, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে তিনি জানান, দেশজুড়ে বিশাল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলায় এই তদন্ত শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ড: নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণের মামলায় আরও ২ জন ভুক্তভোগী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই নিয়ে মামলায় মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। জিয়াউল হাসানের মামলা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হাসানের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য প্রসিকিউশন আরও দুদিন সময় নিয়েছে। যাত্রাবাড়ী হত্যাকাণ্ড: যাত্রাবাড়ী এলাকার হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর একটি অংশের তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য ট্রাইব্যুনাল আরও ১ মাস সময় মঞ্জুর করেছেন। ময়মনসিংহ ট্রাজেডি: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৩ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আগামী ২৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।