ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ - ৬:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চাইল দুদক

  • আপডেট: Thursday, September 17, 2026 - 11:30 am
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।  বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠি বিএফআইইউর পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির আর্থিক ও সম্পদসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য:

দুদকের চিঠিতে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চালু, সুপ্ত ও বন্ধ ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।  এসব হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিবরণ, রেকর্ডপত্র এবং আর্থিক কার্যক্রমের তথ্যও সংগ্রহ করে পর্যালোচনার জন্য দিতে বলা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ডও যাচাই করা হচ্ছে। দেশীয় বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্যও অনুসন্ধানের আওতায় রাখা হয়েছে।

পাঁচ দেশে সম্পদের অভিযোগ যাচাই

দুদকের চিঠিতে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব, অর্থপাচার ও শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে।  দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় বিদেশে আসিফ মাহমুদ বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানির নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক হিসাব রয়েছে কি না, বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না এবং অর্থ স্থানান্তরের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

আগেও অনুসন্ধান শুরু করে দুদক

এর আগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।  পরবর্তী সময়ে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, ঘুষ এবং বিদেশে অর্থপাচারসংক্রান্ত আরও কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  দুদকের অনুসন্ধানে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিদেশে সম্পদ, বিনিয়োগ বা অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএফআইইউর কাছে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে মূলত আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেশ-বিদেশের আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। এখন এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে সংস্থাটি।