ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ - ৭:৪৫ অপরাহ্ন

তথ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

  • আপডেট: Wednesday, September 16, 2026 - 12:26 pm
  • পঠিত হয়েছে: 6 বার

টাচ নিউজ:তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার, সাইবার সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বুধবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি। আলোচনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টিও উঠে আসে।

রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম সংস্কারের কথা তুলে ধরলেন তথ্যমন্ত্রী:

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’ তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর তথ্যের বিস্তার নিয়েও সরকারের অবস্থান উঠে আসে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব রাষ্ট্রদূতের:

গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের প্রবাহ নিয়ে আলোচনার সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের বিস্তার কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

অপতথ্য ঠেকাতে এআই ব্যবহারের ওপর জোর:

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানোর বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে নাগরিকরা যাতে নিরাপদ বোধ করেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঠেকানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপতথ্য প্রতিরোধের কৌশলেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তি কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সরকারের অবস্থান:

বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে অনলাইনে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও মানহানিকর বক্তব্যের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় আসে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই; ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তা সম্প্রসারিত হচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গাদের সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরলেন রাষ্ট্রদূত:

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি তাদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় নেওয়া সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা:

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধ, সাইবার সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্রেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বও উঠে আসে।