ঢাকা | অক্টোবর ৫, ২০২৬ - ৬:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গণতন্ত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: সিইসি

  • আপডেট: Monday, October 5, 2026 - 11:38 am
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

গণতন্ত্রকে সুসংহত, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, শুধু নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের পরিধি বাড়াতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্ট আয়োজিত জেন্ডার সমতা বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন সিইসি। কর্মশালায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নারীদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, প্রার্থী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়েও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য রূপ দেওয়া কঠিন।নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, শুধু নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে নারীর দৃশ্যমান ও কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটার অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক দলের কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, শুধু সভা-সেমিনার কিংবা পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে নারীর সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার নারীদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনি অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। তাহমিদা আহমদ বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো নির্বাচনে নারীদের অবাধ অংশগ্রহণ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নারী ভোটারের তুলনায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা এখনো কম। তাই নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নারীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনি অংশগ্রহণকে কেবল ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে না। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের মতে, নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী, সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।