ঢাকা | অক্টোবর ১, ২০২৬ - ৭:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আনসার-ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর, নতুন উদ্দীপনায় কাজের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • আপডেট: Thursday, October 1, 2026 - 12:48 pm
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:নতুন উদ্দীপনা ও আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘যৌথ অভিযান’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী তা আরও জোরদার করা হবে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নতুন উদ্দীপনা নিয়ে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও চেষ্টা থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিকল্পিত ও উপযুক্ত জায়গায় একটি আধুনিক সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। নতুন সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। তিনি জানান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য প্রায় ১১ বিঘা জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত জায়গায় নতুন সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হলে বাহিনীর দীর্ঘদিনের স্থানসংকটেরও সমাধান হবে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেজগাঁওয়ের নতুন সদর দপ্তরটি প্রায় ৩ দশমিক ৪২৮ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময়, অপারেশন মনিটরিং ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে এই অবকাঠামোর পেছনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর পাশাপাশি ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিভিন্ন জাতীয় সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন রয়েছে এবং বাহিনীটির অবদানের কারণে গর্ব করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। তবে বর্তমান সদর দপ্তরে স্থানসংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। জাতীয় নির্বাচন, পূজা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জাতীয় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রমেও তারা যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন জননিরাপত্তামূলক কার্যক্রমেও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব রয়েছে। আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে কোনো অপশক্তিকে দেশে নাশকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাফিক ব্যবস্থায় যে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, তা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

নতুন সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ ও দাবি-দাওয়া পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব পালনের পরিবেশ আরও উন্নত করার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। নতুন সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।