ঢাকা | আগস্ট ৫, ২০২৬ - ৫:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জুলাই সনদ ও নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সংবিধান সংশোধন, সবার মতামত নেবে বিশেষ কমিটি

  • আপডেট: Wednesday, August 5, 2026 - 11:00 am
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

টাচ নিউজ : জুলাই জাতীয় সনদ এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারের ভিত্তিতে দেশের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি প্রথম বৈঠকে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। কমিটি জানিয়েছে, সংবিধান সংশোধনের আগে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, শিক্ষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি, বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। বৈঠকে সংবিধানের কোনো নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা না হলেও সংশোধন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, কারা এতে অংশ নেবেন এবং কীভাবে জনমত সংগ্রহ করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রথম বৈঠকে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা:

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বৈঠকে সদস্যদের কাছে সংবিধান ও জুলাই জাতীয় সনদের কপি বিতরণ করা হয়। তবে কোনো কার্যপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। কমিটির সদস্যদের সংবিধানের বিভিন্ন দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মতামত প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অন্য একটি সরকারি কর্মসূচি থাকায় তিনি অল্প সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরে অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সবার মতামত নিয়েই হবে সংশোধন:

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সবার কথা শুনব। যে যে বিষয়ে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এমন সংশোধনী গ্রহণ করতে চাই, যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।” তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারই এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। তবে কমিটির প্রতিবেদন কবে নাগাদ প্রস্তুত হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়।

বিরোধী দলের জন্যও খোলা থাকছে দরজা:

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটিতে প্রতিনিধির নাম না দিলেও তারা চাইলে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অথবা লিখিতভাবে নিজেদের মতামত জমা দিতে পারবেন। সেই মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেগুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

‘শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই এই উদ্যোগ’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাই হবে কমিটির অন্যতম দায়িত্ব।

‘পুরো সংবিধানই পর্যালোচনা করতে হবে’

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংবিধানের কোনো একটি অংশ নয়, বরং পুরো সংবিধানই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কারণ, সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, “শুধু আবেগের বশে কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো সংশোধন করা হবে না। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এবং সাংবিধানিক সামঞ্জস্য বজায় রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।”

বিরোধী দলকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান:

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যই প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর অবদান রাখতে তাদেরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে কমিটির দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। বিরোধী দল যখনই অংশ নিতে চাইবে, তখনই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধনের বিকল্প নেই।

জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান:

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, অতীতে কয়েকটি সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছে। তাই শুধুমাত্র সংশোধনের পরিবর্তে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী টেকসই সংস্কারই অধিক কার্যকর হবে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংশোধন ভবিষ্যতে আবার পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে গৃহীত মৌলিক সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হবে।

পরবর্তী ধাপে জনমত সংগ্রহ:

বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, আগামী দিনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করে তাদের মতামত সংগ্রহ করা হবে। এরপর সব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশমালা তৈরি করা হবে, যা পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনী বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সরকার আশা করছে, আলোচনাভিত্তিক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো সংবিধান সংশোধনের পথ সুগম হবে।