বিশ্বকাপ ফাইনালে মহারণ: আর্জেন্টিনার আবেগ, স্পেনের শৃঙ্খলা—কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?
স্পোর্টস ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই বিশ্ব জানতে পারবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়নের নাম। রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই দলই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে। তবে তাদের ফাইনালে ওঠার পথ ছিল ভিন্ন। আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূলতা কাটিয়ে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে, আর স্পেন এগিয়েছে নিয়ন্ত্রিত, ছন্দময় ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে। চলতি বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার অসাধারণ মানসিকতা দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অন্যদিকে স্পেনের শক্তি তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। একই সঙ্গে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে পৌঁছেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফাইনাল হতে যাচ্ছে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ বনাম সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগের লড়াই।
আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি। চলতি আসরে তিনি ইতোমধ্যে ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলের মালিকও এখন তিনি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে নেমে দলকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই কিংবদন্তি। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ ও আলেক্স বেইনাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দলটি বল দখলভিত্তিক ফুটবল খেলেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করছে। আক্রমণ থেকে রক্ষণ—সব জায়গায় তাদের সমন্বয় নজরকাড়া। এই ফাইনালকে অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের লড়াইও বলা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৮.৬২ বছর, আর স্পেনের ২৬.১৯ বছর। একদিকে মেসির অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে ইয়ামালের তারুণ্য—দুই প্রজন্মের দুই তারকার লড়াই ঘিরেও উত্তেজনা তুঙ্গে। ইতিহাসও বলছে, দুই দলের দ্বৈরথ সমানে সমান। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে দুই দলই জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ, ড্র হয়েছে দুটি। বিশ্বকাপে অবশ্য তারা মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল—১৯৬৬ সালে, যেখানে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা জিতলে এটি হবে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং টানা দ্বিতীয় বিশ্বজয়। অন্যদিকে স্পেন জিতলে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে তারা।
ফাইনালের আগে থাকছে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠান। বিশ্বের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে থাকছে বিশেষ হাফটাইম শো। তবে সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু একটাই—মাঠের ৯০ মিনিট। যেখানে নির্ধারিত হবে, বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের মুকুট উঠবে মেসির আর্জেন্টিনার মাথায়, নাকি ইয়ামালের স্পেন নতুন ইতিহাস লিখবে।











