ঢাকা | জুন ২৮, ২০২৬ - ৬:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

যে কারণে বাড়ছে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

  • আপডেট: Sunday, June 28, 2026 - 11:22 am
  • পঠিত হয়েছে: 6 বার

টাচ নিউজ:বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত থেকে ব্যবসায়িক—প্রায় সব ধরনের আর্থিক লেনদেনেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বেতন গ্রহণ, অর্থ স্থানান্তর, অনলাইন কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকের ব্যবহার বাড়ছে। তবে সুদভিত্তিক প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন থাকায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামি ব্যাংকিং সুদের পরিবর্তে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ ও লাভ-ক্ষতিতে অংশীদারত্বের নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এতে আমানতকারীর অর্থ মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা ও ইজারার মতো শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হয় এবং অর্জিত মুনাফা নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টন করা হয়।ইতিহাস অনুযায়ী, আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সূচনা হয় ১৯৬৩ সালে মিশরের মিত গামরে। পরে ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) ও দুবাই ইসলামিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি প্রচলিত ব্যাংক ৬০০টির বেশি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো এবং ১৫টি ব্যাংক ৩০টি ইসলামি শাখার মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সেবা দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শরিয়াহ বোর্ডের কার্যকারিতা, মুরাবাহা, এইচপিএসএম, এলসি ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের বাস্তবায়নে কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখা যায়। এসব বিষয়ে আরও কার্যকর নজরদারি ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।তাদের মতে, ইসলামি ব্যাংকিংকে আরও শক্তিশালী করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং শরিয়াহ গভর্ন্যান্স উন্নত করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছতা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদমুক্ত আর্থিক লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের চাহিদা বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিগত সহায়তা পেলে দেশের অর্থনীতিতে এ খাত আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।