ঢাকা | অক্টোবর ১৮, ২০২৬ - ৪:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

‘বিএনপিকে নয়, আজ থেকে ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব’

  • আপডেট: Sunday, October 18, 2026 - 9:56 am
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

টাচ নিউজ:‘এত দিন বলতাম, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে; বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার মতো যোগ্যতা তাদের নেই।’—এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা বিএনপি সরকারের পতন চাননি; বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন। কারণ, সরকারের সফলতা দেশের সফলতার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা ও সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তারা। এ জন্য সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি না জানিয়ে একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের এবং পরিবারের স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে সরকারের কর্মকাণ্ডের মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি নিপীড়িত রাজনৈতিক দল ছিল। কিন্তু এরপর বিএনপি অতীত ভুলে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত প্রকাশ করলেও গণভোটের বিষয়ে শুরুতে ভিন্নমত জানায়নি। তবে গণভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। জামায়াত আগে গণভোট চাইলেও বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। শফিকুর রহমানের দাবি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপির সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তার মতে, এর মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে একজন মন্ত্রীর কথিত হস্তক্ষেপের ঘটনাও উদ্বেগজনক। তার দাবি, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; কোনো মন্ত্রীর রাজনৈতিক ইচ্ছা অনুযায়ী এটি পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি চাকরিতে দলীয় লোকদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় উন্নয়ন বরাদ্দ ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ও ভোটের হিসাব বিবেচনায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত তহবিল নয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কর ও অবদানে রাষ্ট্রীয় কোষাগার গঠিত হয়। তাই উন্নয়ন ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বৈষম্য ও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার জন্যই কি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল? তার ভাষ্য, জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবার পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও কর আরোপের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিরোধী দলের আগাম আন্দোলন নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে তাদের আন্দোলনের পথে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে কয়টি আসন জনগণ দিয়েছে, সেই আসনের ৮৯ জন এমপি সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।’ শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি পরিবর্তিত হলেও জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে তারা সরে আসবেন না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা অটল থাকবেন। এ বিষয়ে তাদের নানা প্রলোভন দেখানো হলেও সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।