ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ - ৭:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ, বরাদ্দ ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকা

  • আপডেট: Monday, September 21, 2026 - 12:52 pm
  • পঠিত হয়েছে: 7 বার

টাচ নিউজ:পরিকল্পিত, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব দক্ষিণ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে বড় পরিসরের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্প মিলিয়ে ১ হাজার ৭৪ কোটি ৮ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ও ফুটপাত উন্নয়ন থেকে শুরু করে খাল পুনরুদ্ধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক পার্কিং, শিশুপার্ক, সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রসহ নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন খাতকে এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিপিপিভুক্ত চলমান সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি প্রক্রিয়াধীন ডিপিপিভুক্ত সরকারি প্রকল্পের জন্য আরও ৫১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ ঢাকার অবকাঠামো ও নাগরিকসেবা উন্নয়নে ১ হাজার ৭৪ কোটি ৮ লাখ টাকার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক বাসসকে বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দক্ষিণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা। ইনার সার্কুলার রিং রোডের বেড়িবাঁধ রায়েরবাজার দুই নম্বর গেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আসার পাশাপাশি নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া ডিএসসিসির অঞ্চল-২, ৪ ও ৭-এর আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাতের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়নেও রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। ডিএসসিসির আওতাধীন প্রধান সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাতের সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ১৮০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর চলাচলব্যবস্থার পাশাপাশি পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ:

দক্ষিণ ঢাকার পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আওতায় খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি খালের আশপাশের পরিবেশ উন্নয়ন ও নান্দনিক করার উদ্যোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন ৫ অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে উন্নয়ন:

ডিএসসিসির সম্প্রসারিত এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। নতুনভাবে যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোকে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এসব এলাকার নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নেওয়ার ফলে ডিএসসিসির সম্প্রসারিত এলাকাগুলোতেও অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্কিংয়ে আধুনিকায়ন:

আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনাকেও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির অধিভুক্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, সড়ক মেরামতে ব্যবহৃত আধুনিক যানযন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ম্যাকানাইজড পার্কিং স্থাপনের মাধ্যমে যানজট নিরসন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পার্কিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে এ প্রকল্পে।

শিশুপার্কে ৯৬ কোটি টাকা:

নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের পরিচিত এ বিনোদনকেন্দ্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের জন্য আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগও বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে প্রকল্পটিতে।

কমিউনিটি সেন্টারেও উন্নয়ন:

নগরবাসীর সামাজিক ও পারিবারিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত পর্যায়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ডিএসসিসির ছয়টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংস্কার, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এসব কেন্দ্র আধুনিকায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্নত পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব:

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নকে শুধু সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। যোগাযোগ, পরিবেশ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্কিং, বিনোদন ও সামাজিক অবকাঠামো—সবকিছুকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডসহ পুরোনো এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ফলে পুরো দক্ষিণ ঢাকাকে একটি সমন্বিত নগর কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

একসঙ্গে এগোবে বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন:

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএসসিসির সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৭৪ কোটি ৮ লাখ টাকার কর্মপরিকল্পনা দক্ষিণ ঢাকার অবকাঠামো ও নাগরিকসেবা উন্নয়নে বড় উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। সড়ক থেকে খাল, ড্রেনেজ থেকে ফুটপাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে পার্কিং এবং শিশুপার্ক থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র—নগরবাসীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে একযোগে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসকের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দক্ষিণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ, নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোতে পরিবর্তন আসবে এবং নগরবাসীর জন্য আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।