ঢাকা | আগস্ট ১৪, ২০২৬ - ১২:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মধ্যরাতেও ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা, দায়ী ‘গরিবের টেসলা’: জ্বালানিমন্ত্রী

  • আপডেট: Thursday, August 13, 2026 - 12:07 pm
  • পঠিত হয়েছে: 9 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার ব্যাপক ব্যবহারের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ধরন বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, আগে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকলেও এখন মধ্যরাতেও প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকছে। এর পেছনে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বা ‘গরিবের টেসলা’ বড় ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়কে পিক আওয়ার ধরা হতো। এরপর বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসত। কিন্তু বর্তমানে রাত ১২টার পরও প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকছে, যা স্বাভাবিক নয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সারাদিন চলাচলের পর বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশা রাতে একসঙ্গে চার্জে বসানো হচ্ছে। এতে মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এসব ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সংযোগের বড় একটি অংশ অবৈধ বা অননুমোদিত। এসব সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়ছেন বলেও জানান তিনি। এমনকি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী। দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ এবং বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। শিল্প খাত ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমান সংকটকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। গত কয়েক বছরে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশে আরও বেশি এফএসআরইউ স্থাপনের অবকাঠামো আগে থেকে তৈরি থাকলে বর্তমান সংকটের মাত্রা এতটা হতো না। মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এফএসআরইউ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। এ বিষয়ে দ্রুত আগ্রহপত্র দেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দৈনিক গ্যাস ঘাটতি ১২০০–১৪০০ এমএমসিএফডি: সিপিডি

আলোচনা সভায় সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১২০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করতে না পারায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কারণে দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও জানায় সিপিডি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন কারণও রয়েছে। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর।