রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি
টাচ নিউজ: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোটের শরিক দলগুলোর বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজকের বৈঠকে প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করার বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা:
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোট হয়েছিল মাত্র একবার—১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে একক প্রার্থী থাকায় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ফলে এবার ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সংসদে সংখ্যার হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। ফলে সংসদে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটগুলোর আসনসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। ফলে অলি আহমদের প্রার্থিতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল নির্ধারণে সংসদ সদস্যদের ভোটই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ:
অলি আহমদ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা এবং এলডিপির চেয়ারম্যান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিরোধী জোট সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করতে চাইছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কতজন প্রার্থী থাকবেন এবং ভোটাভুটি হবে কি না, তা নির্ভর করবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ার ওপর।











