ঢাকা | জুলাই ২৭, ২০২৬ - ৩:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

১৩ বছর বিনা বেতনে ৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়,অনার্স-মাস্টার্স পাস শিক্ষকরা কেউ অটোচালক, কেউ টিউশনি করে সংসার চালান

  • আপডেট: Monday, July 27, 2026 - 9:16 am
  • পঠিত হয়েছে: 5 বার

স্টাফ রিপোর্টার:শহিদুল ইসলাম: ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের পাঠদান করে আসছেন প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক। অনার্স-মাস্টার্স পাস এসব শিক্ষক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষার পেছনে ব্যয় করলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বেতন-ভাতা থেকে এখনো বঞ্চিত। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে কেউ টিউশনি করছেন, কেউ আবার পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে অটোচালকের পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, জাতীয়করণের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৩ সালের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী তালিকা অংশ নেওয়াই সফলতা অর্জন করেছে তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনা ও নানা অজুহাতে এসব বিদ্যালয়কে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার অভিযোগ:

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য ও বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সরকারি উদ্যোগে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যালয়গুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, প্রায় ৩১ হাজার বিদ্যালয় তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আসে। কিন্তু যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোকে রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে কিছু অযোগ্য বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকায় স্থান পেয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

১৩ বছরেও বেতন নেই:

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করায় এসব শিক্ষকের অনেকেই এখন চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় তারা বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে পাঠদান করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিনিময়ে কোনো নিয়মিত বেতন-ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকে সন্তানদের ভালো ইস্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন না। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করানোও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের। পরিবারের খরচ চালাতে কেউ টিউশনি করছেন, কেউ ছোটখাটো ব্যবসা করছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে অটো বা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বঞ্চনার শিকার শিক্ষার্থীরাও: 

শুধু শিক্ষক নয়, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ওপরও। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেসব সরকারি সুবিধা পায়, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। উপবৃত্তি, মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিশুরা আরও পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

২০১৭ সাল থেকে আন্দোলন:

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কনসালটেশন কমিটির মাধ্যমে পাঁচ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপরও চূড়ান্তভাবে জাতীয়করণের কার্যকর উদ্যোগ না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

দ্রুত জাতীয়করণের দাবি:

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের প্রধান দাবি, ২০১৩ সালের সরকারি গেজেটের আলোকে ২০১২ সালের ২৭ মে-এর আগে প্রতিষ্ঠিত, জমি দলিলকৃত ও বর্তমানে চালু থাকা অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্রুত জাতীয়করণ করা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে কাজ করা শিক্ষকদের মানবিক দিক বিবেচনা করে জাতীয়করণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:

শিক্ষকদের অভিযোগ, জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। কোন বিদ্যালয় জাতীয়করণের শর্ত পূরণ করেছিল, কোনগুলো বাদ পড়েছে এবং কী কারণে বাদ পড়েছে—এসব তথ্য প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের মতে, ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করা শিক্ষক ও তাদের পরিবারের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এখন কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্যার কে পাঁচ হাজার বিদ্যালয়ে গুলোকে দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি

সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল
যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি
যোগাযোগ:০১৬১২-২৭৬৫০৪