ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ - ৫:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে আসছে সমন্বিত শিক্ষাক্রম:শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট: Saturday, September 12, 2026 - 11:01 am
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা, ইংরেজি কিংবা অন্য কোনো ধারায় একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও তার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন মানদণ্ড থাকা জরুরি। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে; তবে শিক্ষার মৌলিক মান ও কারিকুলামে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’ নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

প্রাথমিক শিক্ষায় ন্যূনতম মানদণ্ড জরুরি:

প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের সময় ও কার্যকর লার্নিং আওয়ার, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা দরকার। তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক যেমন প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা-উপকরণও নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা LMS-এর কার্যকর ব্যবহারসহ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমে যেসব ভালো চর্চা রয়েছে, সেগুলো দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চা অনুসরণ করবে বিশ্ব’

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার সেরা চর্চা অনুসরণ করাই সরকারের লক্ষ্য নয়। বরং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে একদিন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চাগুলো বিশ্বের অন্য দেশগুলো অনুসরণ করে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বিশ্বের সেরা চর্চাগুলো অনুসরণ করতে চাই না, একদিন বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্য দেশগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চা অনুসরণ করে, এটাই আমাদের স্বপ্ন।’ এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

অংশীজনের মতামত নিয়েই নতুন কারিকুলাম:

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলাম তৈরির সময় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চান না, যেখানে কেউ বলতে পারেন যে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষকতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কারিকুলাম প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা সাজাতে চায় সরকার। তিনি আরও বলেন, কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার মৌলিক মানের বৈষম্য কমিয়ে আনা হবে। অনুষ্ঠানে অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।