ঢাকা | জুন ২৫, ২০২৬ - ৭:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আশুরার দিনেই কি কেয়ামত হবে? যা বলছে ইসলাম

  • আপডেট: Thursday, June 25, 2026 - 12:56 pm
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ বা আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বহু ঘটনার স্মৃতিবাহী এই দিনকে ঘিরে ধর্মীয় আবেগ ও গুরুত্বের পাশাপাশি সমাজে নানা ধরনের বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—আশুরার দিনেই নাকি সংঘটিত হবে কেয়ামত। তবে ইসলামি গবেষক ও আলেমরা বলছেন, এ ধারণার কোনো নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় ভিত্তি নেই। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী বলেন, সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, মহররমের ১০ তারিখ বা আশুরার দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। কিন্তু কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত কোনো সহিহ হাদিসে আশুরার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ নেই। নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থগুলোতেও এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।”

মুফতি শামছুদ্দোহা আরও বলেন, কেয়ামতের সময় ও তারিখ সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই অবগত। যদিও কিছু হাদিসে জুমার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে তা মহররমের ১০ তারিখ বা আশুরার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তার ভাষায়, “আশুরার দিন কেয়ামত হবে—এমন বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞানের আলোকে এ ধরনের ধারণা পরিহার করা উচিত।”ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা, আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করা এবং মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি করা। তাই ভিত্তিহীন বিশ্বাসের পরিবর্তে আশুরার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন হওয়াই মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।