ঢাকা | আগস্ট ১, ২০২৬ - ৫:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কোর্স সম্পন্নের আগেই ‘Graduating Students’ উল্লেখ করে ফেয়ারওয়েল? স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে ঘিরে প্রশ্ন

  • আপডেট: Saturday, August 1, 2026 - 8:00 am
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (SUB) ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ স্টাডিজ (DES)-এর ৫৫তম ব্যাচের ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একাডেমিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর দাবি, ব্যাচটির কিছু শিক্ষার্থীর কোর্স, পরীক্ষা বা অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাদের “Graduating Students” হিসেবে উল্লেখ করে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৮ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়, গত ৬ জুলাই ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ স্টাডিজের ৫৬তম ব্যাচ ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সম্মানে “A Heartfelt Farewell of Batch 55, DES” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, ডিন অধ্যাপক ড. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষা জীবনের স্মৃতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

তবে এ আয়োজনের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ৫৫তম ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম তখনও সম্পন্ন হয়নি। তাদের প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতিতে পুরো ব্যাচকে “Graduating Students” হিসেবে উল্লেখ করার ভিত্তি কী ছিল।

অভিযোগকারীদের মতে, ফেয়ারওয়েল একটি সামাজিক অনুষ্ঠান হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ব্যবহৃত শব্দ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত একাডেমিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা:

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানের পর অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি ও পোস্ট প্রকাশ করে নিজেদের “Graduating Student” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এতে অনেকের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য:

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “চার-পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য তো আর ফেয়ারওয়েল বন্ধ করে রাখা ঠিক হবে না। আপনারা তো জানেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে অনেক খরচ হয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ এতে কষ্ট পেয়ে থাকেন বা কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকে, সেটি অবশ্যই দুঃখজনক।”

ইউজিসির ভূমিকা:

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমের সামগ্রিক তদারকির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজন হলে ইউজিসি বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যাখ্যা চাইতে বা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যের অপেক্ষা:

এ বিষয়ে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ স্টাডিজের চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।