ঢাকা | জুলাই ৮, ২০২৬ - ৮:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে দেওয়ার তাগিদ

  • আপডেট: Wednesday, July 8, 2026 - 11:18 am
  • পঠিত হয়েছে: 5 বার

টাচ নিউজ:দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোকে আইনগতভাবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিদ্যমান আইন সংশোধন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের সরকারি লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ হবে। বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে।বক্তারা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, ভোটাধিকারসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সুশাসন এবং বাজেট প্রণয়নেও সঠিক নিবন্ধন তথ্য অপরিহার্য।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। যদিও সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমানে প্রচলিত ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ অনুযায়ী নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত পরিবারের ওপর বর্তায়। কিন্তু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে এ দায়িত্ব দেওয়া হলে দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ নবজাতক জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ এই পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আইন সংশোধনের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও জনভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়মিত গণমাধ্যমে তুলে ধরতে পারলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।