জনগণের বিবেচনাবোধকে অবজ্ঞা করার অধিকার কারও নেই: ডা. শফিকুর রহমান
টাচ নিউজ:জনগণের রায় ও বিবেচনাবোধকে অবজ্ঞা করার অধিকার কোনো রাজনৈতিক শক্তির নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা একসময় সংসদে দাঁড়িয়ে ‘জুলাই সনদ’কে ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ বলেছিলেন, তারা আজ জনগণের বিচারবোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে জনগণের বিবেচনাবোধকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে ভবিষ্যতে জনগণ রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা হারাবে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই নিজেদের সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মূল্যও যথাযথভাবে দিচ্ছেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, যাদের নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যেও ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে এসেছে।
তিনি দাবি করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে পরাজিত করা হলেও সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। তবে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন কোনো কমিশন গঠনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় সংশোধনী সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আনা সম্ভব। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন এবং ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানো। জনগণের দেওয়া সেই রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন বা পুরোনো—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে তারা নন। তবে কেউ যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অপমান করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ ও তরুণ সমাজই তার জবাব দেবে।
গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি:
সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রের পুনর্জন্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রবন্ধে ২০২৬ সালের গণভোটে পাওয়া ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন উল্লেখ করে দ্রুত তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার এবং শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
অলি আহমদের বক্তব্য:
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, সরকারকে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য ও সংলাপের বিকল্প নেই।সেমিনারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।











