ঢাকা | অক্টোবর ২৭, ২০২৬ - ৭:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি : মামুনুল হক

  • আপডেট: Tuesday, October 27, 2026 - 12:35 pm
  • পঠিত হয়েছে: 3 বার

টাচ নিউজ:সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। তাই কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে পা দেবেন না। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, “আমরা মাঠে তামাশা করতে বা খেলতে নামিনি। আমরা যে দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি—সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবি, হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। তাই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে পা দেব না ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনগণের ঐক্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও গতিপথ নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার লড়াইয়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। সময়ের সঙ্গে এ ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতা ও মহাসচিবরা অংশ নেন। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ছিল বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য।

৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ:

মামুনুল হক জানান, গণভোটের রায় কার্যকর, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে কর্মসূচিটি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। লংমার্চে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দলীয়করণ বন্ধ, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দাবি তোলা হবে বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে কর্মসূচি নিয়ে শঙ্কা নেই: মামুনুল হক

সম্প্রতি গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লংমার্চ চলাকালে সেখানে কোনো হামলার আশঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা এ ধরনের আশঙ্কা করছেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে বিপুলসংখ্যক ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। কোনো দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হলে তা মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি। গোপালগঞ্জ প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে।

জাতীয় সংকট প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, সংসদ ও রাজপথে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে তাঁরা সহনশীল কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তবে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে আগ্রহী নয় বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মামুনুল হক। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপির বক্তব্য উদ্বেগজনক। দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদে থেকে বিচারবহির্ভূত ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিয়েও সমালোচনা:

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন ও সফরসঙ্গীদের তালিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, এমন ব্যক্তিদের সফরসঙ্গী করা হয়েছে, যাঁদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব বা প্রটোকল নেই। রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদন ও ঘোরাঘুরির সফরে পরিণত করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে তাঁরা সন্দিহান। অধিবেশনের আগে বিরোধী দল আবার বৈঠকে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলেও জানান তিনি।

ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ:

ভারতের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “যারা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, তারা বোধহয় সঙ্গে ছিলেন; তাই তারাই ভালো বলতে পারবেন।” সংবাদ ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।