ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ - ৬:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ইউপি ভোট দিয়ে শুরু, পর্যায়ক্রমে হবে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচন

  • আপডেট: Monday, September 14, 2026 - 11:54 am
  • পঠিত হয়েছে: 6 বার

টাচ নিউজ:আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ধাপে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে একটি ধারাবাহিক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের এ পরিকল্পনার কথা জানান জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কয়েকটি ধাপে আয়োজন করবে কমিশন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি একসঙ্গে সম্পন্ন না করে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট আয়োজনের সুযোগ থাকবে।

প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন:

স্থানীয় সরকার কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর ইউনিয়ন পরিষদ। দেশের গ্রামাঞ্চলের নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে ইউপি নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন রাখার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। তবে প্রথম ধাপে দেশের কতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে এবং কোন কোন এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

আইনে পরিবর্তন না এলে বর্তমান বিধানেই ভোট:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো নিয়েও কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনে নতুন কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন না এলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতেই নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন। আইন সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনের নতুন কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন না আসে, তবে বর্তমান ও বিদ্যমান আইনের ওপর ভিত্তি করেই কমিশন নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করবে। এতে নির্ধারিত সময়ে ভোট অনুষ্ঠানে কোনো আইনি বা কার্যগত জটিলতা থাকবে না।’ অর্থাৎ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না এলে বিদ্যমান আইন অনুসরণ করেই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ধাপে ধাপে অন্যান্য নির্বাচন:

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন রয়েছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচন শুরুর পর পর্যায়ক্রমে এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনও আয়োজন করা হবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন স্তরের নির্বাচন কোন সময় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতির অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ধাপভিত্তিক নির্বাচনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন:

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য ধাপ, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী সামগ্রী, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন গতি:

নির্বাচন কমিশনের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী, ভোটার, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা বাড়তে পারে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। ফলে কোন এলাকায় কখন ভোট হবে, প্রার্থী মনোনয়ন, প্রচারসহ অন্যান্য ধাপের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আইনে নতুন কোনো পরিবর্তন না এলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতেই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। নভেম্বরের মাঝামাঝি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।