ঢাকা | জুন ১১, ২০২৬ - ৬:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  • আপডেট: Thursday, June 11, 2026 - 11:51 am
  • পঠিত হয়েছে: 2 বার

টাচ নিউজ:রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অক্সিজেনের স্বল্পতা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করে। জবাব দিতে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে ৯ জুন তারা লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেয়।তবে সেই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় **দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২**-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।তবে একই আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

তদন্তে যা উঠে এসেছে:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবায় একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখা হয়েছিল সেটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ছিল না এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল ও অনিয়মিত।এ ছাড়া ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাশাপাশি হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।