ঢাকা | মে ২৮, ২০২৪ - ৫:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আশুলিয়ায় পিএমকে হসপিটালে হার্টের চিকিৎসক দিয়ে সিজার! নবজাতকের মৃত্যু, মা আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

  • আপডেট: Tuesday, August 1, 2023 - 8:05 am
  • পঠিত হয়েছে: 123 বার

টাচ নিউজ ডেস্ক: ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় পিএমকে হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে হার্টের চিকিৎসক দিয়ে গর্ভবতী নারীর সিজারিয়ান অপারেশন করায় গর্ভের সন্তান মৃত্যু ও গর্ভবতী নারী মৃত্যুসজ্জায় । শিল্প কল কারখানার হওয়ার কারণে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে পিএমকে হসপিটাল এমন অভিযোগ, এলাকাবাসী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ।
ভূক্তভোগী রুবেল বলেন, আমার স্ত্রী মিসেস চুমকি আক্তার একজন প্রসূতি নারী। প্রসব ব্যাথা জনিত কারণে পিএমকে হসপিটালে নিয়ে যাই । সেখানে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বলেন ভর্তি করানোর জন্য, আমি জিজ্ঞাসা করি ডাক্তার কে আছেন, তখন আমাকে বলা হয় ডাক্তার ফেরদৌসী সুলতানা এমবিবিএস (গাইনী বিভাগ) আছেন। তাদের কথা শুনে আমার স্ত্রীকে ভর্তি করাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করানোর সময় বলেন, যদি অপারেশন প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা ফেরদৌসী ম্যাডামকে দিয়েই অপারেশন করানো হবে।।
রোগী সুস্থ ও ঠিক ছিলো, হঠাৎ রাত অনুমানিক ২ টার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আচমকা এসে বলে আপনাদের রোগীর অবস্থা ভালো না এখনই অপারেশন করাতে হবে, না হয় রোগী বাঁচানো যাবেনা। রাত ২:৩০ মিনিটে অপারেশন শুরু করে প্রায় ৪ ঘন্টা অপারেশন করানো হয়। প্রায় ৪ ঘন্টা অপারেশন করার পর তারা চুমকি আক্তারের কাগজপত্রে লিখেন অপারেশন টাইম ১:৩০ মিনিট অপারেশন করেন। তখনি সন্দেহ হয়। অপারেশনের সময় গরমিল লেখা দেখে সন্দেহ ও সংশয় হলে আমরা জানতে চাই, কে অপারেশন করাইছে, তখন জানতে পারি, অপারেশন চলাকালীন ২ জন ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করেন, ডাক্তার রাইসুল ইসলাম আবাসিক সার্জন ও ডাক্তার পুজা। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ডাক্তার রাইসুল ইসলাম হার্ট ফাউন্ডেশনের কোর্স করা ডাক্তার হলেও তাকে পিএমকে হসপিটালে আবাসিক সার্জন হিসেবে রেখে গর্ভবতী নারীদেরকে এমন প্রতারণার অভিনব কৌশলে সিজার করানো হয়।ভুক্তভোগী নারীর স্বামী আরও বলেন, আমার সাথে কথা ছিলো ডাক্তার ফেরদৌসী সুলতানা’কে দিয়ে অপারেশন করাবে। সিজারে বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চার অবস্থা ভালো না দেখে তারা আমাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করে দেয়। ৬ দিন পর আমার নবজাতক বাচ্চা মারা যায় এবং আমার স্ত্রী চুমকি আক্তারের অবস্থা আশংকাজনক। আমাদের সাথে প্রতারণা করে সিজারের রোগীকে হার্টের ডাক্তার দিয়ে সিজার করানোয় আমি আমার নবজাতক সন্তান’কে হারাতে হলো এবং আমার স্ত্রীও এখন আশংকাজনক অবস্হায়।
তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাক্তার রাইসুল ইসলাম একজন কোর্স করা ডাক্তার। তিনি মিরপুর ২ নাম্বার হার্ট ফাউন্ডেশনে ট্রেনিং করছে। হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্মরত একজন ডাক্তার বলেন, হার্ট ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং প্রাপ্ত ডাক্তার যারা তারা কোথাও চাকুরী করতে পারবেনা। তাদের চাকুরী করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের লাইন্সেস বাতিল করা হবে। ভূক্তভোগীর স্বামী রুবেল বলেন, হার্ট ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং করা ডাক্তার দিয়ে সিজার করানোর কারণে আজ নবজাতকের মূত্যু হয়েছে। আমি আমার নবজাতক সন্তানের মুত্যুর বিচার চাই এবং আমার নবজাতক সন্তানের চিকিৎসার সাথে জড়িত ডাক্তারের শাস্তি চাই, পিএমকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তি চাই– তাদের লাইন্সেস বাতিল করার জোড় দাবী জানাচ্ছি। আমার স্ত্রীর অবস্থা আশংকাজনক।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবী অবিলম্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিল সহ হাসপাতাল বন্ধ করা। বহুদিন ধরেই চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা তাদের অভিনব কৌশলে প্রতারণার শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে । তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। কেউ ভয়ে, কেউ আত্নসম্মানের কারণে মুখ খুলছেননা। এলাকাবাসীর ও ভুক্তভোগিদের দাবি পিএমকে হসপিটাল বন্ধ, লাইন্সেস বাজেআপ্ত এবং অপরাধের সাথে জড়িত ডাক্তারদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোড় দাবী।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পিএমকে হসপিটালের কর্তৃপক্ষের সংগে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।