ঢাকা | মে ২৮, ২০২৪ - ৬:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক নাটক ছড়িয়ে দিতে হবে এ প্রজন্মের কাছে—খান শওকত

  • আপডেট: Monday, March 13, 2023 - 7:46 pm
  • পঠিত হয়েছে: 327 বার

টাচ নিউজ ডেস্ক:সারাবিশ্বে বঙ্গঁবন্ধুর জীবন আদর্শ ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নাট্যকার খান শওকত। তার ধ্যান জ্ঞান প্রেম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। নতুন প্রজন্মকে চিনাতে চান নাটকের মাধ্যমে।তাইতো তিনি লিখেছেন ৩৫ টি ঐতিহাসিক নাটক বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র।দেশ বিদেশে নাট্যকার খান শওকতের লেখা নাটকসমুহ ইতিমধ্যে মঞ্চায়ন হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।

এক নজরে নাট্যকার খান শওকতের লেখা নাটকসমুহের – মঞ্চায়ন।

গত ২১/১২/২০২২ তারিখে খান শওকতের লেখা ৪টি নাটক নিয়ে কলকাতার যাদবপুরে যোগেশ মাঈম একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় ভারত বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব-২০২২. নাটকগুলোর নামঃ হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চের ভাসন, আমার নাম শেখ মুজিব এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

গত ১৩, ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারিতে (২০২৩) ঝিনাইদহের অংকুর আয়োজিত নাট্যোৎসবে খান শওকতের লেখা হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু মঞ্চস্থ করে ঝিনাইদহ শিশু কিশোর নাট্যদল।

গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারিতে (২০২৩) বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত টাঙ্গাইলের জেলা শহীদ মিনারে জাতীয় পথ নাট্যোৎসবে যে ৬টি নাটক মন্চস্থ হয় তার মধ্যে খান শওকতের লেখা শহীদ রাসেল মঞ্চস্থ করে ঢাকার নাট্যভুমি।

গত ২৪/২/২০২৩ এবং ২৫/২/২০২৩ তারিখে খান শওকতের জন্মস্থান খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বাজারে তার লেখা ৫টি নাটক নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব-২০২৩. নাটকগুলোর নামঃ হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু, আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া, মহা-চক্রান্তে বাকশাল, শহীদ রাসেল এবং খুনী মোশতাক।

গত ১লা মার্চ থেকে ৬ মার্চ (২০২৩) পর্যন্ত ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ আয়োজিত পথনাটক উৎসব-২০২৩ -এ মোট ৩০টা নাটক মন্চস্থ হয়। তার মধ্যে ৪ঠা মার্চ তারিখে খান শওকতের লেখা শহীদ রাসেল নাটকটি মঞ্চস্থ করে ঢাকার নাট্যভূমি।

আগামী ১৭/৩/২০২৩ তারিখে খান শওকতের লেখা ৩টি নাটক নিয়ে কুমিল্লার লাকসামে আয়োজন করা হবে বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব। নাটকগুলোর নামঃ আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া, মহা-চক্রান্তে বাকশাল এবং শহীদ রাসেল।

আগামী ১৭ ও ১৮ মার্চে (২০২৩) ঝিনাইদহের অংকুর নাট্য একাডেমি খান শওকতের লেখা ১০টি নাটক নিয়ে ঝিনাইদহে আয়োজন করা হবে বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব।

গত ২৬/৩/২০২২ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ পরিষদ মন্চস্থ করে খান শওকত রচিত নাটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

গত ২রা মার্চ-২০২১ তারিখে খুলনার শাহপুর বাজারে এবং ৯ মার্চ-২০২১ তারিখে খুলনার থুকড়া বাজারে খান শওকতের লেখা রক্তাক্ত ১৫ই আগষ্ট নাটকটি মঞ্চস্থ করে থুকড়া গ্রাম থিয়েটার।

গত ২৩/১/২০২০ তারিখে কলকাতার অন্যদেশ নাট্য একাডেমি খান শওকতের লেখা বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ নাটকটি মন্চস্থ করে দমদম নেতাজী মন্চে। উক্ত নাটকটি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ১৯ বার মঞ্চস্থ করে বঙ্গবন্ধু থিয়েটার।

গত ২রা জানুয়ারি-২০২০ তারিখে সিলেটের দেশ থিয়েটার কানাইঘাটে মন্চস্থ করে খান শওকতের লেখা স্বাধীনতার ঘোষক। সেই থেকে তারা স্বাধীনতার ঘোষক এবং আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া নাটক দুটো মঞ্চস্থ করছেন।

গত ১৬/১২/২০১৯ তারিখ থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থিয়েটার খান শওকতের লেখা ৭ই মার্চের ভাসন নাটকটি বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত পরিবেশন করছেন।

২০১৯ সাল থেকে অদ্যাবধি পাবনা থিয়েটার-৭৭ খান শওকতের লেখা আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত পরিবেশন করছেন।

গত ১৭/৩/২০১৭ তারিখে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এবং ২রা মে ২০১৭ তারিখে নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে খান শওকতের লেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নাটকটি মঞ্চস্থ করে বঙ্গবন্ধু থিয়েটার।

যেহেতু দুই বাংলা ও প্রবাসের বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই হাজার নাট্য সংগঠনকে ইমেইলের মাধ্যমে এবং মুদ্রিত বই উপহার দিয়েছেন খান শওকত। তাই তাদের অনেকেই এসব নাটক মঞ্চস্থ করছেন।এছাড়া দুই বাংলার বিভিন্ন জেলায় এবং প্রবাসে বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব মঞ্চায়ন হয়েছে শতবার এবং উৎসব আয়োজনের কাজ চলমান রয়েছে।

এসব নাট্য উৎসবে দেয়া বক্তব্যে নাট্যকার খান শওকত বলেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলার আগে ও পরে বাংলার মসনদে অনেক নবাব বসেছেন, শুধুমাত্র সিরাজউদ্দৌলা ছাড়া আমরা অন্যদের নামও জানিনা। কারন সিরাজকে নিয়ে নাটক লেখা হয়েছিলো। তাই নাটকের সংলাপের মাধ্যমে সে ইতিহাস আমাদের মুখস্ত হয়ে গেছে। একইভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক নাটক ছড়িয়ে দিতে হবে এ প্রজন্মের কাছে। সংলাপের মাধ্যমে তারা বলবেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের এ প্রয়াস। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।

আপনারা জানেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এই প্রথম একই মন্চে দুই বাংলার নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহনে মন্চস্থ হলো ভারত বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব। “ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী চিরজীবি হোক”- এই শ্লোগান সামনে রেখে ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর তারিখে কলকাতায় যাদবপুরের যোগেশ মাইম একাডেমি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো ১ম ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব। ঐদিন দুপুর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চললো এ উৎসব। বাংলাদেশ স্বাধীনের ৫১ বছর পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুই দেশের নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্যোৎসব শুরু হলো। এ উৎসব এখন সময়ের দাবী।

নাট্যকার খান শওকত বলেন, বাংলাদেশে বইমেলার স্বপ্ন সফল করতে ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় চটের ওপর ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এখন তো বইমেলা দুই বাংলা এবং প্রবাসের বিভিন্ন দেশে বইমেলা এক জনপ্রিয় উৎসব। একইভাবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসবের স্বপ্ন দেখেছিলাম অনেক আগে। ১৯৯৩ সাল থেকে এ স্বপ্নটা লালন করছি ব্যাপকভাবে। অনেককেই বলেছি কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক রচনা করে রাজনৈতিক ঝুঁকি নেবার আগ্রহ দেখাননী। এরপর আমি নিজেই লেখা শুরু করি। গত ২১/১২/২০২২ তারিখে কলকাতায় যাদবপুরের যোগেশ মাইম একাডেমি মঞ্চে আমার লেখা ৪টা নাটক দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ১ম ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব। আমরা হয়তো এখন ছোট আকারে এ নাট্য উৎসব শুরু করছি, কিন্তু বিশ্বাস করুন যদি মুজিব সৈনিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারি, এ আয়োজন অনেক ব্যাপক হবে একদিন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন মন্চে, শিল্পকলার উৎসবে এবং বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের উৎসবে আমার লেখা নাটক মন্চস্থ হয়েছে। এবার আমরা দুই দেশে শুরু করছি। তবে সবার সহযোগিতা পেলে আগামীতে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে এ উৎসব করার ইচ্ছা আছে আমাদের।