ঢাকা | মে ২১, ২০২৪ - ১:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অনলাইনে শিক্ষক বদলি এক মাইলফলক

  • আপডেট: Tuesday, December 20, 2022 - 7:13 pm
  • পঠিত হয়েছে: 77 বার

হাসান মারুফ
প্রথমবারের মত সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনলাইন প্লাটফরমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আইএমডি)। শিক্ষকদের ভোগান্তি লাঘবে এই সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে সকল বদলি অনলাইনে হওয়াতে আগেকার ম্যানুয়ালী বদলি প্রক্রিয়া উঠে যাবে।

অনলাইনে বদলী আবেদন দাখিল ও প্রসেসের জন্য IPEMIS – Integrated Primary Education Management Information System এই ওয়েবসাইটে শিক্ষক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে এবং IPEMIS ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে http:// myschool.eis.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে লগ ইন করে আবেদন করতে হয়। তবে এ পর্যায়ে ঢাকাসহ ১১টি সিটি করপোরেশনে বদলি আপাতত করা হচ্ছে না। এজন্য আলাদা নীতিমালা করা হবে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় পাইলটিং সফলভাবে বাস্তবায়নে পর বর্তমানে সারা দেশে অনলাইনে বদলি প্রক্রিয়া চলমান আছে।

নিজ নিজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হয়। এরপর বদলির জন্য নিজের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করতে হয়। একজন ব্যক্তির অন্য জনের জন্য বদলির আবেদন করা যাবে না। নিজের আবেদন নিজেকেই করতে হবে। বদলি হতে ইচ্ছুক এমন তিনটি পছন্দ দেয়া যায়। তবে চাইলে একটি পছন্দের জায়গাও দেয়া যাবে। আবেদনের সাথে যাবতীয় প্রমাণ ও কাগজপত্র ছবি তুলে বা স্ক্যান করে সংযুক্ত করা যাবে। মাসিক রিটার্ন, চাকরি বইয়ের ফটোকপি ইত্যাদি সংযুক্তির প্রয়োজন হবে না। তবে ক্ষেত্রমতে স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলের বা স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র, বদলির কারণ কিংবা প্রেক্ষাপটের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হতে পারে। বিদ্যমান বদলির নীতিমালার শর্তাবলীর আলোকে এমনভাবে সফটওয়্যারে সবকিছু সেট করা হয়েছে যেন অযাচিত কিংবা বদলির শর্ত পূরণ করে না এমন কেউ আবেদন করতে পারবে না। শূন্যপদের সকল তথ্য ডাটাবেজে থাকায় শিক্ষকরা আবেদনের সময়ই বিদ্যমান সকল শূন্যপদ দেখতে পাবেন এবং এক বা একাধিক বিদ্যালয় বাছাই করে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন পেশ করার পর তা পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তা অনুমোদন বা সুপারিশের জন্য তিন দিন সময় পাবেন। তিনি তা আটকে রাখতে পারবেন না। তিন দিনে তিনি তার কাজ না করলে তা আবারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ঊর্ধতন কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে। স্পাউসের কর্মস্থল, সিনিয়রিটি, স্থায়ী ঠিকানাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কোরিং করা হয়। এভাবে অনলাইনে বদলির ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ নেই। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে। বদলিকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। নানা জায়গা থেকে বদলির জন্য সুপারিশ, যোগাযোগ, অনুরোধ, আবেদন, সাক্ষাৎ এগুলো ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এতে শিক্ষকেরা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারতেন না, পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হতো। এ জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় সফটওয়্যার তৈরি করে বদলির কাজটি করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকদের আর এখানে সেখানে বদলির জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না, কারও কাছেও যেতে হবে না।

শিক্ষকরা তাদের শিক্ষক পিন (ই-প্রাইমারি সিস্টেম) ব্যবহার করে ওটিপি অথেনটিকেশনের মাধ্যমে লগইন করে নিজস্ব ইউআই (ইউজার ইন্টারফেস)-এ প্রবেশ করে আবেদন করে থাকেন বলে গোপনীয়তা রক্ষা পায় ও প্রাইভেসি ঠিক থাকে। সঠিকভাবে আবেদন সাবমিট করলে আবেদনকারী আবেদনের একটি পিডিএফ কপি এবং অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং নম্বর সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড একটি রিসিট পাবেন এবং মোবাইলে নোটিফিকেশন পাবেন। তাছাড়া শিক্ষক পিন ব্যবহার করে লগইন করে যে কোনও সময় নিজের ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারেন। সফটওয়্যারে প্রতিটি ধাপে সময় নির্ধারণ করা থাকার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনটি অগ্রসর হতে থাকবে এবং কোনও ধাপে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের সুযোগ থাকে না।

আবেদনকারীর বদলির প্রেক্ষাপটের আলোকে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কোর নির্ধারিত হবে। ফলে আবেদনকারী একাধিক হলে অগ্রাধিকার তালিকাও সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। ফলে শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে টিসিভি (টাইম, কস্ট, ভিজিট) কমিয়ে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে অন্যদিকে অযাচিত তদবির ও চাপ কমে যাবে। এভাবে পুরোপুরি ডিজিটালভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকগণ, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণের বদলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম একটি সুফল যা টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট এর ৪ নং অভিষ্ট অর্থাৎ ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ’-এ অনুকূল কর্ম পরিবেশ তৈরি করবে বলে সহজেই অনুমেয়।

লেখক: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।