নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে নিস্পত্তির জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কিন্তু পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশ পালিত হচ্ছেনা। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন অত্র মসজিদের সচেতন মুসল্লি সমাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাওলানা মিজানুর রহমান ২০০৬ সালে তৎকালীন জোট সরকারের শরিকদল ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের ভাগীনা হিসেবে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে পেশইমাম পদে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নিয়োগ পান।

তিনি যেসব জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন তার অন্যতম হচ্ছে স্বীকৃতিবিহীন সনদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাকরি বিধি ১৯৯৮এর২(ধ) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে সার্টিফিকেট অর্থ সরকার স্বীকৃত বোর্ড ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত হতে হবে। মাওলানা মিজানুর রহমান চাকরির আবেদনে শুধু কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন। যা তৎকালী সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ছিলনা। অথচ ওই সময় স্বীকৃত সনদ এবং উচ্চ ডিগ্রীধারী অনেক প্রার্থী ছিল।

মাওলানা মিজানুর রহমান চাকরিতে নিয়োগলাভের জন্য বেফাকের সনদ জাল করে তিনবছর বয়স কমিয়ে জন্মসনদ জমাদেন। তার আসল জন্ম সাল ১৯৭৪, তা পরিবর্তন করে ১৯৭৭ সাল করা হয়। এই জাল-জালিয়াতির ঘটনায় বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক তার সহযোগি বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গঠিত তদন্ত কমিটির দুই কর্মকর্তার কাছে মাওলানা মাহফুজুল হক ইমামের বয়স পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও কিসের ভিত্তিতে বয়স পরিবর্তন করা হয়েছে তা খোলাসা করেননি।

মাওলানা মিজানুর রহমানের নিয়োগের সময় শিক্ষাগতযোগ্যতার জন্য ২০ নম্বর নির্ধারিত ছিল। নম্বর প্রদানের ভিত্তিহিসেবে লেখাছিল দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল পরীক্ষার প্রত্যেক স্তরের ১ম শ্রেণীর জন্য ৫, ২য় শ্রেণীর জন্য ৪, তৃতীয় শ্রেণীর জন্য ৩। মাওলানা মিজানুর রহমানের এসব কোন যোগ্যতাই ছিলনা। কেবল দাওরায়ে হাদিস পাশ তিনি। অথচ তাকে নিয়োগের উদ্দেশ্যে শিক্ষাগতযোগ্যতার জন্য ২০ নম্বরের মধ্যে পুরো ২০ নম্বর দেয়া হয়।

সূত্র মতে, মাওলানা মিজানুর রহমান সাবেক মহাপরিচালক সামীম মোঃ আফজালের সময় জালিয়াতির মাধ্যমে সিনিয়র পেশ ইমাম পদে পদোন্নতি ভাগিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠানটির উক্ত পদের জন্য জ্যেষ্ঠ ক্রম তালিকায় মাওলানা মিজানুর রহমানের নাম ছিলনা। কেননা সিনিয়র পেশ ইমামের পদ ৫ম গ্রেডভুক্ত। সরকারী বিধি অনুসারে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি হয় ৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত পদ থেকে । মাওলানা মিজানুর রহমান ছিলেন ১০ম গ্রেডভুক্ত পেশ ইমাম। ১০ম গ্রেডভুক্ত পেশ ইমাম হওয়ায় পরও মাওলানা মিজানুর রহমান ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি পান। যদিও তালিকায় ৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত পদোন্নতি যোগ্য সিনিয়র ইমাম ছিল।

দেশের প্রধান জাতীয় মসজিদের এমন অনিয়মে সংক্ষুব্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক ইতিপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগ দেন। সরকারের সিভিল অডিট অধিদপ্তর ও এসব অনিয়মের প্রতিকারে উদ্যোগী হয়।

সিভিল অডিট অধিদপ্তরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে মাওলানা মিজানুর রহমানের নিয়োগ বাতিল, দায়দায়িত্ব নির্ধারণ পূর্বক জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণসহ আপত্তিকৃত অর্থআদায় করার জন্য বলা হয়।

এসব আবেদন ও আপত্তিতে কোন কাজ না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা এনামুলহক ফের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ৩০ জুন ২০২০ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় পৃথক একটি তদন্ত কমিটি করে। কিন্তু ওই তদন্ত কমিটিও ব্যর্থ হয়। এরপর বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। আদালত গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করার নির্দেশ দেন।

১৫ দিনের জায়গায় পাঁচ মাস পার হলেও মাওলানা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা আছে এই অজুহাতে ইফার মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমান রহস্যজনকভাবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে ইফার মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মাওলানা মিজানুর রহমান এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে দাবি করে এ নিয়ে আর কোন রিপোর্ট না করার অনুরোধ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে