নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ক্ষমতা – অর্থবিত্ত- সম্পদের মোহে সভ্য মানুষকে অসভ্য হতে দেখেছে অতীতে যার হাজারও প্রমান বাংলাদেশের ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যাবে। ক্ষমতা -অর্থ বিত্তের অহংকারে বহু ধনী হয়েছে পথের ভিখারি, অনেকে হারিয়েছে সিংহাসন আর ইদানীং সম্রাটের সামাজ্রপতন দেখছে সারাদেশ সহ এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রর জনগন তারপরও ক্ষমতা অর্থ বিত্তের লোভ চিরতরে মুছে ফেলা যাবে না।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, যারা ক্ষমতা অর্থ সম্পদের মোহে পড়েনি তারা কি পায় জীবনে? তারা রাজ্যও পায়না, রাজত্বও পায় না – তাহলে কি পায়?

সৎ রাষ্ট্র বা রাজ্যে ক্ষমতা, অর্থ সম্পাদের মোহ নেই যাদের মধ্যে তারা(দেশপ্রেমিক) বড় বড় উপহার ছাড়াও অনেকসময় রাজ্য বা রাজত্ব দুটোই পায় সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা রাজ্য প্রধানের মানষিকতার উপর নির্ভর করে। অার নির্ভর করে রাজা বা রাণীর অধীনস্থ কর্মকর্তা, পাইক পেয়াদার সুপারিশের উপর।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৎ, ন্যায়পরায়ন, আদর্শ বা চেতনার অনুসারী দেশপ্রেমিকরা সবসময় অবহেলিত, লাঞ্চিত, এবং ভিখেরীর পাত্রে পরিণত হয়ে আসছে। যদিও বঙ্গবন্ধুর সময়েও সততার মূল্য ছিল, আবেগ অনুভূতি চেতনার রাজনীতি কে অধিক গুরুত্ব দিতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু । বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর সততা, আদর্শ, চেতনার রাজনীতির বিলুপ্তি ঘটে। অনেকেই ধারণা করেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে ত্যাগী, সৎ ও চেতনার রাজনীতিকে মূল্যায়িত করবেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যাস্ত থাকায় তার অনুপস্থিতিতে দ্বায়িক্তপ্রাপ্তরা ক্ষমতার মোহে অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্থদের বিভিন্ন উপহার দিয়ে সৎ, গরীব, চেতনার অনুসারীদেরকে শুধুই লাঞ্ছিত, বঞ্চিত করেই ক্ষান্ত হননি তারা অনেককে চিরতরে শেষ করে দিয়েছেন। অনেকে রাগ অভিমানে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দুরে সরে গেছেন।

ইদানীং ব্যাপক প্রচারে আসছে সৎ দেশপ্রেমিক, চেতনার রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে দৃশ্যমান কিছুই দেখা যায়নি। তবে গুজবে ভক্ত বাংলাদেশের সহজ সরল শান্তিপ্রিয় বঙ্গবন্ধু ভক্তরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, হয়ত এবার অাদর্শ চেতনার রাজনীতি ফিরে আসবে যেকারণে অাওয়ামী লীগ কার্যালয়গুলোতে উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশের লক্ষ কোটি বঙ্গবন্ধুর অাদর্শে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মত অামরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সততা, আদর্শ ও চেতনার রাজনীতি ফিরিয়ে আনবেন।
যদি সততা, নীতি, অাদর্শ, চেতনা ও আবেগ অনুভূতির রাজনীতি ফিরে আসে তাহলে আবারও ঢাকার রাজপথে দেখতে পাবো বঙ্গবন্ধু ভক্ত, ত্যাগী অাওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের উৎসবমুখর পদচারণা।

দেখতে পাবো দুই যুগ ধরে পদবঞ্চিত শেখ হাসিনার পাগল প্রেমিক সাবেক ছাত্রনেতা, বিএনপি জামাত জোট সরকারের দুঃশাসনে নির্যাতিত ঢাকার রাজপথের জনপ্রিয় শিল্পী সাংবাদিকদের নেতা শেখ উজ্জ্বল বাহিনীকে যারা বিএনপি জামাত সরকারের দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে দুঃসাহসিক ভুমিকা পালন করেছিল। যারা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী ইতিহাস বিকৃতি রুখে দিয়েছিল সেই দুর্দিনে বঙ্গবন্ধুর ভিডিও ডকুফ্লিম নির্মান ও সারাদেশে হকারের মত প্রচার করে। যারা জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সয্য করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঘোষিত সকল কর্মসূচী সফল করতেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম(অাসাফো) র ব্যানারে কালো ড্রেসকোডধারী যে তরুণ গ্রুপটি ঢাকার রাজপথে গানে পথ নাটকে, গণসঙ্গীতের সাথে শ্লোগান ধরতেন “” সেভ বাংলাদেশ, সেভ শেখ হাসিনা “‘ তাদেরকেই বলা হতো শেখ উজ্জ্বল বাহিনী যারা দেশের সর্ব্বোচ্চ শিক্ষিত হয়েও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালবেসে খেয়ে না খেযে অাওযামী লীগ কার্যালয়ের সার্বক্ষনিক অবস্থান ও মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিতেন। যাদের কোন পদ, ক্ষমতা বা অর্থ সম্পদের মোহ কাবু করতে পারিনি অাজো।

ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মুক্তি অান্দোলনে যখন বড় বড় নেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তখন একটি মাত্র সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং করেছে সেই সংগঠনটি বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম(অাসাফো) এবং সংগঠনটির প্রতিষ্টাতা ও সভাপতি হচ্ছেন বারবার পদবঞ্চিত ও অবহেলিত নেতা শেখ উজ্জ্বল। বন্দী শেখ হাসিনার সংসদ ভবনস্থ সাবজেলের সামনে জায়নামাজ, তসবী, ইসলামিক বিভিন্ন বই, ফল ফুল নিয়ে যারা প্রতিদিন ফুটপথে বসে থাকতো, রাস্তায় নামাজ পড়ে শেখ হাসিনার জন্য কান্নাকাটি করতো তারাই ঐ সংগঠনের নেতাকর্মী। বন্দী শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়ে যে সব বাউল সাধুগুরুগণ পালাগান তৈরি করে সারাদেশে প্রচার করতো তারা সবাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কক্টোর অনুসারী বারবার পদ পদবী ও নমিনেশন বঞ্চিত, বিত্তশালী দুর্নীতিবাজ নেতাদের দ্বারা লাঞ্চিত ও অবহেলিত নেতা শেখ উজ্জ্বল এর সৈনিক।

অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত সাবেক ছাত্রনেতা এবং শেখ হাসিনার জন্য জীবনবাজি রাখা নিন্মো মধ্যবিত্ত পরিবারের উচ্চশিক্ষিত সন্তান, সাংবাদিক শেখ উজ্জ্বল কে গত ১০ বছরে তার অাত্মত্যাগের বিনিমযে দেযা হযনি কোন পদ পদবী বা নির্বাচন করার সুযোগ। পদবঞ্চিত শুধু তিনি একা নন, তার মুল সৈনিক, রাজপথের কণ্ঠশিল্পী ও অগ্নিকন্যা রিনা আমিন, রাজপথের সংগঠক ও অাবৃত্তিকার অারজু খান, বাউল সাধুগুরু অামজাদ দেওয়ান, সাবেক ছাত্রনেতা ফেরদৌস আলম রাজুসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। বারবার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন ফরম পূরণ করার পরও অর্থসম্পদ না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাকে গুরুত্ব দেননি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে বঞ্চিত ত্যাগী অাদর্শ চেতনার অনুসারী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাদের সততা ও নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের জন্য মূল্যায়িত হবেন এবং দুর্নীতিবাজ, ক্যাসিনোবাজদের কবল থেকে অাওয়ামী লীগকে মুক্ত করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা এ বিশ্বাস সমগ্র বাংলাদেশ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে