মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী: টেস্ট সে করতে চায়নি। চিকিৎসক বলেছে ‘দরকার নেই’। টেস্ট এড়াতেও বলতে পারে। জ্বরের ওষুধ দিয়েছে। ধমক দিয়ে টেস্ট করালাম। কভিড১৯ ‘পজিটিভ’। ফুসফুস চৌদ্দ শতাংশ সংক্রমণ। চললো নিবিড় মনিটরিং, চিকিৎসা। চার সপ্তাহ পরও ‘পজিটিভ’। কর্মকর্তা, আমার পিএ(এআরও) শাখাওয়াত! এখন অফিস করছে। আগের চেয়ে দ্বিগুন উদ্দীপনায়!

পঁচিশ জুনের আগেও কুমিল্লায় কেউ আক্রান্ত ছিল না। ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে সব ওলোটপালট। পরিবারসহ প্রায় চল্লিশ জন আক্রান্ত। কর্মকতা তেইশ জন। সহকারী কমিশনার থেকে সেপাই। আজকের হিসেবে বিশ জন সুস্থ। পরিবারের সদস্যরাও একই পথে। সেবার আনন্দে স্পন্দিত কুমিল্লা কাস্টমস পরিবার।

এ মুহূর্তে ‘নেগেটিভ’:
আল্লাহর অশেষ রহমতে এ তালিকায় বিশ জন!
১. সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিপন
২. সহ: প্রোগ্রামার আবুল কালাম আজাদ
৩. আরও আব্দুল মোতালেব
৪. আরও মোঃ খাদেমুল ইসলাম
৫. আরও আমির হোসেন
৬. আরও জনাব শাহিন উদ্দিন
৭. আরও জনাব হারাধন পাল
৮. আরও জনাব মীর হোসেন
৯. এআরও মোঃ আল আমিন ভূইয়া
১০. এআরও আব্দুল্লাহ আল নোমান
১১. এআরও মোঃ এনামুল হক,
১২. এআরও শাখাওয়াত হোসেন।
১৩. উচ্চমান সহকারী আদিব
১৪. উচ্চমান সহকারী তোফায়েল আহমেদ
১৫. উচ্চমান সহকারী মামুন
১৬. এলডিএ মনির আহমেদ
১৭. সিপাই ফয়সাল
১৮. সিপাই ইজ্জত আলী
১৯. সিপাই মোঃ নুর হোসেন
২০. ইউডিএ সানজানা আক্তার পুষ্পা

নেগেটিভ হবার পথে
১. এআরও মাইদুল ইসলাম
২. এআরও ইকরাম হোসেন রনি
৩. এআরও শাহাদত হোসেন

আমাদের সেবকরা সেবিছে সাধ্যমতো। আর্থিক, ওষুধ, খাবার, পরামর্শ যখন যেখানে যেভাবে যেকোন দরকারে। কৃতিত্বপূর্ণ ধন্যবাদ কুমিল্লা সদর টীম! এসি ছালাউদ্দিন রিপন, আরও সালাউদ্দিন, আব্দুল মোতালেব, মনিরুল ইসলাম, আমিনুল হক, সাইফুল ইসলাম। সর্বত্র সম্পৃক্ত এআরও ওমর ফারুক ভুঁইয়া, প্রণব তঞ্চগ্যা, শাখাওয়াতসহ অনেকে।

কি করেছি আমরা—
সবার ক্ষেত্রেই আমীদের রুটিন কাজ ছিল:
✔️লক্ষণ দেখা দিলেই সময় নষ্ট না করে কভিড ধরে চিকিৎসা শুরু
✔️ দ্রুততম সময়ে টেস্ট করা
✔️ নিয়মিত ওষুধ সেবন ও প্রটোকল মনিটরিং
✔️ সকাল সন্ধ্যা ফোন করে খবর নেয়া ও উদ্দীপিত রাখা
✔️ দুর্বলতা এড়াতে সমুদ্রের মাছ, তরল ও সুষম খাবার খেতে উদ্বুদ্ধ করা
✔️ অসুস্থ ও সুস্থ শরীরে রোদ লাগাতে সাপ্তাহিক রাজস্ব সভায় উৎসাহিত করা
✔️ নিরাপদ মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করা
✔️ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা দিতে নির্দেশনা দেয়া

ধন্যবাদ রোগীদের! ওরা আমাদের কথা মান্য করেছে। কৃতজ্ঞতা কমিশনার ডা: হুমায়ুন কবীর ভাই, মুগদা হাসপাতালের ডা: মো. মোহসিন, বিএসএমএমইউ’র ডা: মেহেদী হাসান, এআরও ডা: আশরাফুল জান্নাত।

জাকিরের গতকাল জ্বর ও ডায়রিয়া শুরু হয়। শরীর দুর্বল। আগেও একবার আক্রান্ত হয়েছে উচ্চমান সহকারী জাকির। দেরী না করে টেস্ট করা হলো। ‘নেগেটিভ’। আলহামদুলিল্লাহ।

ফেসবুক যেন মৃত্যু সংবাদে ভরে গেছে! মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বহু আপনজন হারিয়ে গেছে। অনেক প্রিয়জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লড়ছে। আর ‘ইন্নালিল্লাহ….’ পড়তে যেন না হয়। জীবন যেন হয় ‘আলহামদুলিল্লাহময়’!

লক্ষণ_দেখলেই_টেস্ট’ করোনা প্রতিরোধের প্রাধিকার। এরপর অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা। কভিড রোগীকে সময়ানুগ সাহস ও সেবা দিতে হবে। অবহেলা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কুমিল্লা কাস্টমসের চল্লিশ জন যেভাবে সুস্থ হলো, সেভাবে সারা দেশের আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠুক। অসুস্থ ও সেবাকারীদের সুস্থতার দোয়া চাই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন!

লেখক: কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট-কুমিল্লা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে