টাচ নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্রে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ এখন পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এখন কৃষি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা ক্ষেত্রে সফল। এছাড়া প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে এগিয়ে। স্যাটেলাইটের দেশ হিসেবেও বিশ্বের মানচিত্রে আমরা নিয়েছি জায়গা করে। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ চলছে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে নিজের কিছু স্বপ্ন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীতে মেয়র হিসেবে সেবার সুযোগ পেলে সু স্বাশনের আদলে বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চাই । এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও বাড়ির মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে নগরের সব জায়গায় সিসিটিভি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। এসব সিসিটিভির মাধ্যমে নগরের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের মনিটরিং যেমন করা যাবে, তেমনি রাস্তায় বা কোনো বাসার সামনে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তারও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একই সঙ্গে পুরো দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত গতির ওয়াইফাই ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে। এতে বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়ার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যোগগাযোগ ব্যবস্থা যেমন আরও উন্নতি হবে, তেমনি বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়াদের ছেলেমেয়ে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ফ্রী ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা আউটসোর্সিং বা অনলাইন বিজনেসে মনোযোগী হয়ে বেকারত্ব দূর করে সাবলম্বি হতে পারে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। আর এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বছরে কমপক্ষে ৫ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করি।

এ পরিকল্পনা বস্তবায়নের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্সও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। বরং কমানো হবে। আর বাড়িভাড়াও যেনো মালিকরা যখন-তখন না বাড়ান সেদিকও খেয়াল রাখা হবে। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি-পয়ঃনিস্কাশন ও বিনোদন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সিটি কর্পোরেশনকে আমলাতান্ত্রীক প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে নগরের সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করা হবে। নগরীর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সে তার প্রতিকারের সুযোগ পাবে। যেখানে থাকবেনা কোনো দুর্নিতি বা অনিয়ম।

নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ, আধুনিকায়ন ও পুন:র্নিমাণের পাশাপাশি জনসাধারণের সুবিধার্থে ফুটপাতের অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হবে। সু শাসনের আদলে বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাই হবে এসব পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ। বিশ্বায়নে এই যুগে পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছে তাদের নিজ নিজ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশেও এর ব্যাতিক্রম নয়। কেননা সুশাসন হলো কাঙ্খিত শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন। সুশাসন হলো উন্নয়নের দ্রুততর করা প্রক্রিয়া যার মাধমে জীবনযাত্রার উৎকর্ষতা বাড়ে। সুশাসনের মানদন্ড-ই হচ্ছে আইনের শাসন।

সততা, মেধা ও যোগ্যতার সমন্বয়ে শৈশব থেকেই নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রেখেছি। অংশ নিয়েছি মুক্তিযুদ্ধেও এবং দেশের কল্যাণে এখন কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় নাগরিকরা যদি সেবা করার জন্য নগরপিতার আসন দেন, তাহলে নিজেকে বিলিয়ে দেব সেবার সব শাখা-প্রশাখায়।

লেখক:
মো.শহিদুল ইসলাম, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি ও সভাপতি ঢাকা মহানগর পূর্বের।
২০১৫ সালে দক্ষিণ ঢাকা সিটি করপোরেশন জাসদের মেয়র প্রার্থী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে