টাচ নিউজ ডেস্কঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সুদের টাকা পরিশোধ না করায় রিসফু হু ইয়া ইয়া ওরফে রিসান (১৬) নামে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রকে গলা ও পায়ের রগ কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-১৩) একটি দল।

গ্রেফতাররা হলেন- ঘোড়াঘাট থানা এলাকার বিল্লাল উদ্দিনের ছেলে স্বাধীন উদ্দিন (২৯), অপর দুই জনের নাম প্রকাশ না করলে তারা ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে রংপুরে র‍্যাব-১৩ এর অস্থায়ী সদর দফতর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-অধিনায়ক মেজর সৈয়দ মইদুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ের কাছে পরিত্যক্ত একটি হোটেলে শনিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দুর্বৃত্তরা অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া রিসান নামে এক কিশোরকে পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যা করে রেখে যায়। পরে নিহতের মা রুমিজা খাতুন তার একমাত্র ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। রিসান রাণীগঞ্জ বাজারস্থ আল-হেরা ইসলামী প্রি-ক্যাডেট স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি রাণীগঞ্জ বাজারে একটি ভ্রাম্যমাণ খাবার হোটেলে পার্ট টাইম কাজ করত।

নিহতের মায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে র‍্যাব-১৩ এর উপ-অধিনায়ক জানান, গত ২৮ জানুয়ারি (শুক্রবার) রাতে রিসান তার বাবার ওষুধ কেনার জন্য রানীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর দীর্ঘসময় চলে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন সকালে লোকজনের মুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান মা রুমিজা। পরে তিনি নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মেজর সৈয়দ মইদুল ইসলাম আরও জানান, র‍্যাব-১৩ ওই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ এর সাথে জড়িত আসামি স্বাধীন উদ্দিন এবং তার সহযোগী দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেন।

তিনি জানান, আসামি স্বাধীন দশ মাস আগে রিসানকে সুদের ওপর টাকা ধার দেন। রিসান প্রথম তিন মাস সুদের টাকা পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে সুদের টাকাসহ মূল টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন। এই অর্থনৈতিক লেনদেনকে ঘিরে রিসানের সঙ্গে স্বাধীনের দ্বন্দ্ব বাধে। এ ছাড়া রিসানের কাছে তার মায়ের গচ্ছিত ২০ হাজার টাকা থাকার বিষয়টিও জানত স্বাধীন। এরই জের ধরে গত ২৭ জানুয়ারি স্বাধীন তার দুই কিশোর বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিসানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আসামি স্বাধীন তার কিশোর বন্ধুদের মাধ্যমে রিসানকে রাণীগঞ্জ বাজারে তার পানের দোকানে ডেকে নিয়ে আসলে তাদেরকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের পাঁচ মাথা মোড়ের নিকট পরিত্যক্ত হোটেলে যেতে বলেন। পরবর্তীতে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী স্বাধীন তার পানের দোকান বন্ধ করে আনুমানিক সোয়া দশটার দিকে ঘটনাস্থলে যান।

সেখানে আসামি স্বাধীন পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে না পেলে রাগান্বিত হয়ে তার সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রিসানের গলা কাটেন। এ সময় রিসান চিৎকার করলে স্বাধীনের এক কিশোর বন্ধু ভিকটিমের মুখের ভেতর বালু দিয়ে চেপে ধরে এবং অপর কিশোর তার হাতে থাকা ধারাল ছুরি দিয়ে তার পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে পৌনে এগারোটার দিকে রিসানকে রেখে তারা পালিয়ে যায় বলে জানান র‍্যাব-১৩ এর উপ-অধিনায়ক। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে