ফাইল ছবি

টাচ নিউজ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বুধবার (২ মার্চ) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

সাত কলেজে আগে কিছু সমস্যা ছিল, যেটা খুবই স্বাভাবিক। যখন থেকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়, তখন থেকেই তাদের মানের ভিন্নতা আসে, তাদের পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম ভিন্ন মানে করতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী এ সাত কলেজে পড়াশুনো করছেন। এটা দুই দিক থেকে সমন্বয়ের ব্যাপার রয়েছ’, যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সাত কলেজের সঙ্গে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা সমন্বয় করছেন তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সে কারণেই সেশনজট এখন অনেকটাই কমে এসেছে। আশা করি, সেশনজট সমস্যা আর থাকবে না। পরীক্ষার ফলগুলো তারা যথাসময়ে দিতে পারবেন এমন আশার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অধিভুক্ত কলেজগুলোকে যেভাবে দেখা দরকার, সাত কলেজকেও সেভাবেই দেখবে। কাজেই আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করা এটা কোনো চিকিৎসা কিংবা সমাধান নয়। এটাকে এ মুহূর্তে আমি কোনো যৌক্তিক দাবি বলে ভাবছি না। সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে উন্নত হচ্ছে, এটিই আমাদের জন্য যথার্থ মনে করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনও করেছেন তারা।

এদিকে প্রায় ছয় সপ্তাহ বন্ধের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছেন।

ঢাকা কলেজে মুজিব জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘রাজনীতির কবি’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ বিতরণ ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টশন-২০২২ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, আগামী দুই শিক্ষাবর্ষে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা হবে। করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের এখন নিয়মিত ক্লাস হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা কলেজে উপস্থিত হলেও আমি কথা বলছি দেশের সব শিক্ষার্থীদের জন্য। করোনার এ দীর্ঘ সময়ে এক ধরনের ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে শিক্ষার্থীরা। আমরা আশা করি, ক্লাস শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের দ্রুত গুছিয়ে নেবে। আগের সব ঘাটতি পূরণ করতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে