কাজী ওয়াজেদ আলী: ভদ্রলোকের সাথে কখনো দেখা হয়নি সামনাসামনি। তবে ফোনে কথা হয়েছে ২/৩ বার। প্রথমআলোতে আমার বেশ কয়েকজন অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিক বন্ধু আছেন। তাঁদের কারো একজনের রেফারেন্সে একদিন ফোন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করাদের সমস্যা, অভিমত, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি। সুনির্দিষ্ট একটা বিষয়ে পুলিশের বিধিবিধান সুস্পষ্টভাবে জেনে নিচ্ছিলেন।

ভদ্রলোক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। প্রতিটি বিষয়ে প্রচলিত রীতি, আইনী বাধ্যবাধকতা আর পুলিশ প্রবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিলেন। এত নিখুঁতভাবে কাউকে কিছু জানতে শুনিনি। তাই বিষয়টা সুস্পষ্টভাবে এবং সুনির্দিষ্টভাবে বোঝাতে ফোনে বেশ সময় লেগে যায়।

ভদ্রলোকের কথায় মনে হচ্ছিল বিষয়টি নিয়ে কিছু লিখবেন অথবা কোনো ফোরামে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন হয়ত। তাই যাতে আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বা বিধি বহির্ভূত কোনো কিছু না যায় সেটা ক্রস চেক করছেন। পাশাপাশি বিষয়টি সম্পর্কে ধারনা নিচ্ছেন।

আমি ভদ্রলোকের লেখা সম্পাদকীয় কলাম মাঝে মাঝে পড়তাম। ভদ্রলোক নির্ভূল তথ্য সমৃদ্ধ অনেক সাহসী লেখা লিখতেন। তবে ওনার লেখার মূল শক্তি বোধহয়, পেশাগত জ্ঞান আর তথ্যের সত্যতার সংশ্লেষ যা একাধিক মাধ্যমে ক্রসচেক করা হত বলে মনে হয়।

শুধুমাত্র পাঠক জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য মন রাঙানো শব্দ ভান্ডার ব্যবহার করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তিনি কিছু লিখেছেন বলে অন্তত আমার মনে হয়নি। বরং তথ্যবহুল অপ্রিয় সত্যগুলো লিখে পাঠকের মনিকোঠায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি আইনের ছাত্র ছিলেন কিনা জানিনা, তবে আইনগত বিষয়ে ভদ্রলোকের ব্যাপক জ্ঞান ছিল বলে লেখাগুলো পড়ে মনে হত।

কয়েকদিন যাবত ভদ্রলোকের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ পত্র পত্রিকায় বেশ আলোচনা হচ্ছে। সবাই ভদ্রলোককে নিয়ে প্রসংশা করছেন। একজন ভাল মানুষের বিদায়ে এমনই তো হওয়া উচিত। একজন মিজানুর রহমান খানের প্রয়াণ আমাদের সুন্দর দৃষ্টিভংগি খুলে দিল।

এটাই ওনার আসল পাওয়া। খুব চেনা না হলেও সোশ্যাল মিডিয়াসহ সকল জাতীয় সংবাদপত্রে ভদ্রলোককে নিয়ে সবার স্তুতি গাইতে দেখে খুবই ভালো লাগছে। অন্তত একজন আলোকিত মানুষকে সন্মানিত করছি আমরা। একজন মিজানুর রহমান খানের স্মৃতি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন আজীবন।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পল্লবী থানা। বাংলাদেশ পুলিশ। 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে