টাচ নিউজ ডেস্ক: পুলিশ মানেই হয়রানি এমন একটা ধারণা জনমনে গেঁথে আছে ব্রিটিশ আমল থেকে, পাকিস্তান আমলে তা আরও বদ্ধমূল হয়। কলে অধিকাংশ নাগরিক পুলিশ কিংবা থানার সেবা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। জনমনে পুলিশ ও থানাছাতি দুর করে পুলিশের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য সম্প্রতি চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাক্কা রেঞ্জ ডিআইজি হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা রেঞ্জের আওতাভুক্ত ১৩ জেলার ৯৬ মসজিদে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। সেই বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, পুলিশ কি থানার কোনাে সেবা নিতে অর্থের প্রয়োজন নেই। দেশের নাগরিক হিসেবে জিডি (সাধারণ ডায়েরি), মামলা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ নানাবিধ সে বিনামুল্যেই নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। গত ১ মার্চ ঢাকা রেঞ্জ অফিস থেকে এ সংড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এরপর ৫ মার্চ থেকে চলছে মসজিদভিত্তিক এ কার্যক্রন। মসজিদভিত্তিক এ প্রচারণায় জঙ্গিবাদ মােকাবিলা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অন্নি সামাজিক অক্ষয়ের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের জামুরি সেবা ৯৯৯-এ কথাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে। সাধারণ মানুষও যাতে অপরাধীর বিষুদে পুলিশকে সহায়তা করে সেই বিষয়েও আহ্বান জানানাে হচ্ছে। পুলিশের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি ভীতি বা নিপীড়নের মুখােমুখি হওয়ার ও নাগরিক সেবা নিতে অনাগ্রহী মানুষের মনে বিশ্বাস এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা রেল পুলিশের উপমহাপরিদর্শক হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মসজিদে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, মসজিদ একটি পবিত্র জায়গা, এখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়। মসজিদে যে যােগাযােগ তৈরি হয় সেটাতে বিশ্বাস এবং আন্দ্রা এফ। অন্ন সাজে সেই যোগাযোগের প্রাণও হয় ইতিবাচক। ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক হারিঃ ওহান আরও বলেন, নাকে নিয়ে তাদের কোনাে সমস্যা আছে কি না, সমস্যা থাকলে সেটা কীভাবে সমাধান করা যায়, আইনগত সমাধানও রয়েছে আবার অনেক কিছুই রয়েছে সামাজিক সমাধান করা সম্ভব। তাে তাই একটা অংশ হিসেবে আমরা প্রতি মসজিদেই শুধু নন; মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোড়া যেখানে যেটি আছে সেখানে, যেখানে বেশি মানুষকে একলা পাওয়া যায়, সব ধরনের মানুষকে একসছে পাওয়া যায়, সেখানে গিয়ে পুলিশ সচেতনতামুলক বক্তব্য দিছে। পুলিশ যেভাবে কাজটি কমতে চার পুলিশ ভেবে কাজটি কহে এবং জমকালের প্রকৃত সাড়া পাওয়ার জন্য জনগণের কাছ থেকে পুলিশ যে সহযােগিতা প্রত্যাশা করে, সেট যেন প্রপালি তান্না পেতে পাল্পে এবং জনগণের কাছেও যেন পুলিশ সম্পর্কে ধারণাটি স্বচ্ছ থাকে সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা এরকম বিছি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলাে বা অন্য যে কোনাে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে পুলিশের সদস্যরা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের সব থানা এবং ইনিন পর্যায়ে এমন প্রচারণা কার্যক্রম চালানাে হবে। নাগরিক নির্মাতা অরিও জোরদার হবে।

এ কার্যক্রমের উদ্যোগ এবং বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে কথা হয় টাঙ্গাইল জেলার সুজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুল ওহাবের সঙ্গে।

আবদুল ওহাব বলেন, ‘এই মসজিদে সপ্তাহে জুমার নামাজ পড়তে আসে সমাজের লােক। সবার সঙ্গে দেখা হয়। আর যদি মসজিদ থেকে শুরু করি, এটা একটা প্রতিষ্ঠান, তারা বাড়িতে গিয়ে বলবে, মিলিতে গিয়ে বলবে। পুলিশে এ মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষ কীভাবে মূল্যামন করছে সে বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যারা মসজিদে অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য শুনেছেন। তারা বলেন, আমাদের সামনে আজকে থানায় কর্মকর্তা মাদক, জুয়া, ই= টিজিং সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে বলে মনে করি। তার সঙ্গে থাকা মসজিদের একজন মুসল্লি জানান, সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মাদক ইভ টিজিং প্রসঙ্গে ওসি সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা আশা করি এভাবে যদি প্রতিটি মসজিদে আমাদের অফিসার ইনচার্জরা একটু সময় দেন তাহলে এদেশে সন্ত্রাস থাকবে, ইভ টিজিং থাকবে না, মাদক থাকতে পারে না। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পুলিশের সেবা দেওয়া, নাগরিকদের সেবা গ্রহণ, পুলিশি হানি-নিপীড়ন বহু স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং এসব প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার জন্য গত বছর ডিসেম্বন্ন থেকে ঢাকা রেঞ্জের উদ্যোগে পুলিশ ২৪ ঘন্টা থানার কার্যক্রম মনিটরিং করার পরিকশা গ্রহণ করে।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে ১৩ জেলার ৯৬ থানা পর্যক্ষেণে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানাে হয়েছে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয়ে। ২৪ ঘণ্টা একযােগে এক মনিটরে স থানা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নবিচ্যুতি বা অনিয়ম করলেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। সরেজমিনে রাজবাড়ীর গোলন্দ ঘানার ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বলছেন একজন সেবাপ্রত্যাশী।

ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের নিমন্ত্রণ কক্ষ লেকে ডিউটি অফিসারের তৎপন্নতা পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত একটি দল। এভাবেই রাত-দিন ২৪ ঘন্টা ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার ৯৬ থানার কার্যক্রম রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একটি মনিটরে পর্যবেক্ষণ চলছে। সেন্ট্রি, ডিউটি অফিসার ও হাজতখানার কর্মকান্ড তদারকিতে প্রতিটি থানায় তিনটি করে মােট ২৮৮টি ক্যামেরা বসানাে হয়েছে। যেগুলাে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুমিয়ে আশপাশেন্ন দৃশ্যও দেখা যায়।

ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এমন সমগােপযােগী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের মনে পুলিশিভাতি দূর হবে। পাশাপাশি উইল হবে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি। বিশ্বব্যাপী করেন মহামারীর এ সংকটকালে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী তাদের নতুন নতুন কর্মপরিকনা দিয়ে যেভাবে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে তা সব শ্রেণির মানুষের কাছেই প্রশংসিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ আধুনিক এক বাহিনীতে রূপান্তর লাভ করুক এ প্রত্যাশা সবার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে