মাহবুবুর রহমান: সিলেটে ধর্ষণের ঘটনার পরপরই নোয়াখালীর নারীর বিবস্ত্র ও নির্যাতনের ভাইরাল ভিডিও দেখে মনে প্রশ্ন জাগলো যা ১৯৭১ সালে নারকীয় দানবের ও হার মানাই। এই রকম ভাইরাল ভিডিও দেখার জন্যই কি ৩০লক্ষ শহীদের রক্তে রন্জিত বাংলদেশ, নাকি এটা একটি বিচ্ছন্ন ঘটনা? মায়ের ভাষা বাংলার দাবীতে যে যুবকেরাও বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে,পাকিস্তানীদের অত্যাচারে বিরুদ্ধে রুখেঁ দাঁডিয়ে, ১৯৬২ সালের শিক্ষা অন্দোলনে থেকে বাংলার রক্তিম সূর্ষ অর্জন পর্ষন্ত বাংলার যুব সমাজ বিন্দুমাত্র মাথা নতো করেনি, যে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বীরের জাত কিন্ত সেই যুব সমাজের আজ এতো অধ:পতন কেন? নাকি ধর্ষণ একটি মানস্তাত্ত্বিক বিষয়, তবে সেটা যখন একটি গ্রুপ মিলে পরিকল্পনা মাফিক সংগঠিত তখন বিষয়টি ক্ষমতার সংঙ্গে ধর্ষকের সংযোগের কারণে নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। নাকি ধর্ষণ যৌনসুখের উদ্দেশ্য নয় বরং অপরপক্ষকে দমিয়ে রাখতে ক্ষমতার প্রদর্শন হতে পারে।
অন্যদিকে ধর্ষকরা জানে বর্তমান পরিচালিত আইন অকার্যকর ফৌজদারি বিচার ব্যবস্হার কারণে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা কোন ব্যপার না। এই কারণে আমাদের দেশে ৯৭ ভাগ ধর্ষণের মামলার আসামী খালাস পেয়ে যায় অর্থাৎ ধর্ষণের শতকরা মাত্র তিন ভাগ মামলার অপরাধীরা শাস্তি পায়। যেগুলি নিয়ে মানুষ কথা বলে অথবা দেশ ডিজিটাল হওয়ার কারণে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সেইগুলির কিছুটা বিচার হয়।
আমরা যদি একটু পিছনে ফিরে দেখি: ২০১৬ সালের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে তনু ধর্ষণ ও হত্যার কথা সবার জানা কিন্তু আজ পর্ষন্ত এর তদন্ত শেষ হয় নাই,বিচারের রায় তো অনেক দুরের কথা। ২০১৭ সালের বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার বিচার বা রায় এখনও হয়নি। ২০১৭ সালে টাংগাইলের বাসে রুপা ধর্ষণ মামলার রায় নিন্ম আদালতে হলেও উচ্চ আদালতে এখনও আটকে আছে ।
তাই ধর্ষণ ও নারী নির্ষাতনের ক্ষেত্রে অকার্যকর ফৌজদারি বিচার ব্যবস্হার পরিবর্তন করতে হবে এবং দীর্ঘসূত্রতা বিচার ব্যবস্হা, বিচারহীনতার সাংস্কৃতি, আইনের প্রয়োগ, প্রশাসনের উদাসিনতার ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ,রাজনৈতিক নেতাদের অদৃশ্য ছায়া,সমাজিক অবক্ষয় রোধ এবং নৈতিক ও মানর্ষিকতার উন্নায়ন ও মামলার জটলা বন্ধ করতে পারলে আবশ্যই যুব সমাজের যুবকরা এই দেশের কাজ করবে।
লেখক: মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, ডেনমার্ক আওয়ামীলীগ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে