টাচ নিউজ ডেস্কঃ খাবারের দাওয়াত না দেওয়ায় এক শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ (শরীয়তপুর) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার কর্মীরা। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করবো। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এরআগে এ ঘটনায় সকালে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর ও যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ উজ্জামান রাশেদ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়।

শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর বলেন, ‘কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই কলেজের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ ব্যাপারী বলেন, ‘শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ সত্যি নয়। আমি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারি।’

কলেজ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ মার্চ) কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতক সম্মান (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিভাগের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে বাংলা বিভাগে আসেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাশেল জমাদ্দার। খাবারের আয়োজনে কেন ছাত্রলীগ নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি তারা জানতে চান। তারা বাংলা বিভাগের প্রভাষক বিএম সোহেলকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেন।

শিক্ষক সোহেল বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন ছাত্রলীগ নেতাদের। পরে সোহাগ ও সোহেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সোহাগ ব্যাপারী শিক্ষক সোহেলকে লাথি, কিল ও ঘুষি মরে আহত করেন। অন্য শিক্ষকরা এসে সোহেলকে উদ্ধার করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে