টাচ নিউজ ডেস্কঃ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কথা বলতে শোনা গেলেও এ প্রথমবারের মতো র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার বিষয়টি ঢাকাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সঠিক তথ্য-উপাত্ত বা আলোচনা ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছে ঢাকা। কেন দেশটি এমন আচরণ করল তার সঠিক কারণ জানতে চায় ঢাকা। তবে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের তিক্ততায় বা সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। বরং দেশটির সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির ইতি টানতে চায়। শুধু তাই নয়, যদি এ নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ভারসাম্য কূটনীতির কারণেও হয়ে থাকে নিজেদের পররাষ্ট্র নীতিতে অটল থাকবে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) শাব্বির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলার বিষয়টি নতুন নয়। তবে এবার একেবারে নাম ধরে একটা প্রতিষ্ঠানের এতগুলো লোককে নিষেধাজ্ঞা। হঠাৎ করে কেন করল এটাই প্রশ্ন আমাদের। তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত। আমরা তাদের প্রতিনিধিকে ডেকে উষ্মা প্রকাশ করেছি। এটা নিয়ে একেকজন একেক কথা বলবে, তবে আমরা চাই এটার মূল কারণ জানতে। তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইব। আমরা চাই এ ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। সম্পর্কে তিক্ততা আসুক সেরকম কিছু চাই না। আমরা সংলাপে বিশ্বাসী। সংলাপের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধান করতে চাই।

বাংলাদেশের ভারসাম্য কূটনীতির কারণ বা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে এমনটা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে এ সচিব বলেন, কেন হলো সেই উত্তর এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। তবে আমরা বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতিকে ধারণ করে সামনে এগোবো। আমরা কারও সঙ্গে বৈরিতা চাই না।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দফতর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে