আনিছ আহম্মদ হানিফ, চাটখিল প্রতিনিধিঃ চাটখিল উপজেলা ২নং নারায়নপুর ইউনিয়ন। ইউনিয়নটি লক্ষ্মীপুর চাটখিলের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ ইউনিয়নে মাদক কারবারিরা গড়ে তুলেছে মাদকের স্বর্গরাজ্য। ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক।

রামনারায়নপুর ও এর আশে পাশের মাদক ব্যবসার উপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় দৈনিক নয়া বঙ্গবাজার। আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশিত হলো প্রথম কিস্তি।

খিলপাড়া, সাহাপুর, হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ, লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুর, দত্তপাড়া, চন্দ্রগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের নিরাপদ করিডোর নেছার মার পোল। নেছার মার পোলের পাশের মাইজের বাড়ি সামনে একটি চা দোকান রয়েছে। এই দোকানের পিছনে রয়েছে বিশাল বাগান। এই বাগানে রাতের আঁধারে জমজমাট হয়ে ওঠে মাদক সেবন কারী ও ব্যবসায়ী উপস্থিতিতে।

মাইজের বাড়ির বাগান থেকে অত্র এলাকায় মাদকের গডফাদার আবদুল হাকিম, খোরশেদ আলম সুমন সোহেল,তেলী বাড়ীর কাউছার নিয়ন্ত্রণ করে মাদক ব্যবসা। মাদক বিক্রেতা ও সেবন কারীদের মোটরসাইকেলের মহড়ার কারণে আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকে এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষের মাঝে।

মাদকের মধ্যে ইয়াবার ব্যবসাটাই বেশী জমজমাট ভাবে চলছে। তাছাড়া ফেনসিডিল ব্যবসা এখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে। বর্তমানে এক বোতল ফেনসিডিল ১৫’শ টাকায় বিক্রি করে এই মাদক সিন্ডিকেট।
লক্ষ্মীপুর ও চাটখিলের বড় ধরনের অস্ত্র ব্যবসা মাইজের বাড়ীর বাগান থেকে পরিচালিত হয়।

রামনারায়নপুর ও এর পাশের এলাকার ইয়াবা ফেনসিডিল ও অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে ,সোহেল, কাউছার ও স্থানীয় যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতা।
এরা রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হলে ও অবৈধ কারবারে এরা এক ও অভিন্ন নীতিতে অটল।

রোহিতখালী খেজুর তলার, চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী
ফাহিমসহ রয়েছে আরো অনেকেই। এরা বিভিন্ন মেরুতে দিনের আলোতে থাকলেও মাদকের জগতে তারা এক মেরুতে। লক্ষণীয় ব্যাপার হল মাদকের বেলায় একসাথে চলছে তাদের কার্যক্রম।

পশ্চিম রামনারায়পুরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আকাশ, ডিয়ার, জাভেদ, এলাকা বাসির অভিযোগ এসব মাদক ব্যবসায়ীরা, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে মাদকের কারবার। ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ ও গাঁজাসহ মাদকের ব্যবসা এরা করে বেড়াচ্ছে।
এদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

মাধবপুরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয় পারভেজের নেতৃত্বে। প্রাপ্ত অভিযোগের জানাযায়, পারভেজ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে মাদকের কারবার। তার রয়েছে বেশ কয়েকজন সহযোগী।

রোহিতখালী দেওয়ান্জী বাজারের মাদক ব্যবসায়ী সলিম নিজস্ব বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে । সলিম বর্তমানে জেলে রয়েছে। সে জেলে থাকলেও তার ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে তার মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বখরা দিয়ে মাদক ব্যবসা করে থাকে সে।

দক্ষিণ রামনায়নপুরে ও রয়েছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট।

মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল সোনাইমুড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাংবাদের জানান, আমরা প্রতিদিনই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই মাদক ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, উদ্ধার করা হচ্ছে মাদক। সাইফুল ইসলাম বলেন, রামনারায়নপুর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর জেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হওয়ায়, এখানে মাদক ও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা একটু বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রামনারায়নপুর কে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত করবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।

রামনারায়ণ পুরের মাদক ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে,চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি এই এলাকায় নতুন এসেছি। আমি ইতো মধ্যে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িতদের তালিকা তৈরি করেছি। তিনি বলেন, আমরা মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যত শক্তিশালীই হোক আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে