টাচ নিউজ ডেস্ক: রাজবাড়ীর জেলায় ৬৭ গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এতে সেখানে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

এদিকে, পানিবন্দি অসহায় মানুষদের কোমর অথবা হাঁটু পানির ভেতরেই বাস করতে হচ্ছে। যাতায়াতের পথঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা অথবা কলাগাছের ভেলায় করে যাতায়াত করছেন তারা।বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও পশু খাদ্যেরও সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের জমি। পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যাকবলিতদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, রাজবাড়ির তিনটি পয়েন্টেই পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮২ সেন্টিমিটার হয়েছে। এ ছাড়া পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার, সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি বইছে। আগামী আরও দুই দিন পদ্মার পানি বাড়বে। এতে করে আরও কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম সহীদ নূর আকবর জানান, এপর্যন্ত প্রায় ১১শ’ হেক্টর ফসল তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী প্রণোদনা দেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক জানান, এখন পর্যন্ত জেলায় ১০,১৩৭টি পানিবন্দি পরিবারের তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের সহায়তা করতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। দুর্গতদের জন্য এখন পর্যন্ত ২৪৮ মেট্রিকটন চাল ও নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ত্রাণ ও নগদ অর্থ মজুদ আছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে